সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সরকারি খরচ কমাতে নয়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

News Sundarban.com :
জুলাই ৫, ২০১৮
news-image

অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করে রাজ্য কোষাগার রক্ষার জন্য এক দফা নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন খরচ করতে হবে রাজ্যের উন্নয়নে। বৃহস্পতিবার নবান্নের বৈঠকে রাজ্য সরকারের ব্যয় সংকোচনের একরকম ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
খরচ কমাতে নজরদারি চালাবে নবান্ন ৷ কোপ পড়ছে গাড়ি, সৌন্দর্যায়নের খরচে। নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে খরচ কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋণ ও কর্মীদের ডিএ বাবদ রাজ্যের ঘাড়ে চাপছে বিপুল বোঝা। সেই ধাক্কায় উন্নয়নের কাজ যাতে ব্যাহত না হয় , সেজন্যই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও এবছরে ৪৬ হাজার কোটির ঋণ শোধ করতে হবে। । মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খরচ কমাতেই হবে। তবে পরিষেবায় হাত নয়। ১২ টি বিভিন্ন দফতরকে অন্যগুলির সঙ্গে সংযুক্তি করে ফল মিলেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেনছেন, যে টাকা বাঁচানো যাবে তা মানুষের জন্যই খরচ করা হবে।
যে কোন দফতরের যেকোনো বৈঠক বা সভা সরকারি অডিটোরিয়াম বা সভাঘরে করতে হবে, এক্ষেত্রে বেসরকারি কোন হোটেল বা জায়গা ভাড়া নেওয়া যাবে না।
বছরে ৫ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করা যাবে না কোন দফতর বা অফিসের সৌন্দর্যকরণের কাজে।
যেকোন সরকারি সভার ক্ষেত্রে সভাস্থল সাজানোর জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচ করতে হবে। সরকারি অনুষ্ঠানে খাবার খরচ কমাতে হবে। সরকারি অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন খরচ কমাতে হবে তবে সরকারি অতিথি বা বিদেশি অতিথিদের ক্ষেত্রে সেটা বাড়তে পারে। জরুরি প্রয়োজন বা পরিষেবা ছাড়া কোন দফতর নতুন কোন গাড়ি কিনতে পারবে না। সরকারি গাড়ির তেলের খরচ কমাতে হবে। একাধিক গাড়ি ব্যবহার নয়, মন্ত্রী-সচিবদের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। এসি মেশিন বসানো ও বিদ্যুৎ খরচ কমানোর উপর জোর। দিল্লি বা অন্য রাজ্যে কোন সরকরি আধিকারিকদের বা মন্ত্রীদের যাওয়ার ক্ষেত্রে একেবারেই অনুমতি ছাড়া যাওয়া যাবে না। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। বিমানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইকোনমি ক্লাসের টিকিট কেটেই সফর করতে হবে। এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ শোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এগুলিকে চালু রেখেই খরচ কমানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন রাজ্যের কর্মীদের ডিএ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা লাগবে। ভুল টেন্ডার বন্ধ করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী