মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কিংবদন্তি শিল্পী আর ডি বর্মনের ৭৯ তম জন্মবার্ষিকী

News Sundarban.com :
জুন ২৭, ২০১৮
news-image

আজ কিংবদন্তি শিল্পী আর ডি বর্মনের ৭৯ তম জন্মবার্ষিকী ৷ জনপ্রিয় এই সংগীত ব্যক্তিত্ব সংগীতপ্রেমীদের মনের মণিকোঠায় রয়ে গেছেন চিরদিনের জন্য। ১৯৩৯ সালে ২৭ জুন জন্ম হয়েছিল শচীন দেব বর্মনের পুত্র রাহুল দেব বর্মনের। দেশের সংগীত ধারায় নতুন এক ঘরানা তৈরি করেছিলেন তিনি। অসংখ্য জনপ্রিয় হিন্দি, বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক আরডি বর্মন। তিনি প্রথম কাজ করেন অভিনেতা মাহমুদ প্রযোজিত ‘ছোটে নবাব’ ছবিতে ১৯৬১ সালে।মিউজ়িক শিক্ষা পেয়েছিলেন প্রখ্যাত সারদ বাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান এবং তবলা বাদক শামতা প্রসাদের কাছে। মাউথ অরগান বাজাতে পারতেন পঞ্চম। ভারতে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইলেকট্রনিক অর্গানের সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের শ্রোতা ও দর্শককে পরিচয় করিয়েছিলেন। গানটি ছিল ও মেরে সোনা রে ।৩৩১টি ছবিতে মিউজ়িক কম্পোজ় করেছিলেন আর ডি বর্মন। এর মধ্যে ২৯২টি হিন্দি, ৩১টি বাংলা, ৩টি তেলেগু, ২টি তামিল, ২টি ওড়িয়া ও ১টি মারাঠি। সংগীত জীবনে আরডি বর্মনের জনপ্রিয় ছবি, ইয়াদো কি বারাত, গোলমাল, খুবসুরত, সনম তেরি কাসাম, ১৯৪২: আ লাভ স্টোরি, রকি, শোলে। শেষ কাজ করা সিনেমাটি হল ‘১৯৪২ আ লাভ স্টোরি’।


আজ, জন্মদিনে এই সব স্মৃতি ভিড় করে আসছে ভক্তদের এবং কাছের মানুষদের মনে। আশা যেমন জানিয়েছিলেন এক সাক্ষাৎকারে, আর ডি চলে যাওয়ার পর তাঁর খুব আফসোস হয়। মনে হয়, গানটা তো গাইলেই হত! না হয় আরও কয়েকটা গান ছেড়ে দিতে হত! কিন্তু, মানুষটার ইচ্ছেটা পূর্ণ হত! আশা ভোঁসলেও বলেছেন ঠিক এই কথাই! এক দিন আচমকাই আর ডি তাঁকে বলেছিলেন, আজ তাঁরা শপিং-এ যাবেন। বেরনো হল গাড়ি নিয়ে। শেষ পর্যন্ত কিন্তু কেনা হল স্রেফ দুটো কাচের গ্লাস। তার পর?ওটারই তো ঝঙ্কার আমরা শুনেছি ‘চুরা লিয়া হ্যায়’ গানে!

আবার, ‘শোলে’ ছবির সময়ে আর ডি বর্মন স্ত্রীকে বলেছিলেন, ”একটা দৃশ্য ভাবো তো! একজন মোটাসোটা জিপসি উওম্যান বসে আছে আগুনের ধারে। সে একটা গান গাইছে। আর, তাকে ঘিরে নাচছে একজন তন্বী যুবতী।”

আশা গানটার সুর শুনেই বলেছিলেন, ”আমি এই গাইব না! আমার গলা বসে যাবে!” অতঃপর, আর ডি নিজেই গাইলেন ‘মেহবুবা, মেহবুবা’!
আবার, গুলজারের মনে হয়, পাহাড়ি পথের বাঁকে, মেঘ আর উপত্যকার মাঝে ভেসে আসা সুরের ধারাই খোদ আর ডি বর্মন। যাঁকে তিনি হারিয়ে খুঁজে ফিরছেন। আমরাও কি সেই সুর খুঁজে বেড়াচ্ছি না প্রতিদিন হন্যে হয়ে?এই জায়গাটা তৈরি করে গিয়েছিলেন খোদ আর ডি বর্মনই! গুলজার একবার কথায় কথায় জানিয়েছিলেন আর ডি বর্মনের সঙ্গে তাঁর প্রথম কাজের অভিজ্ঞতার কথা। ছবির নাম ‘পরিচয়’। গান লিখছেন গুলজার, সুর দেবেন আর ডি। আর ডি হঠাৎ করেই গভীর রাতে হানা দিলেন গুলজারের বাড়িতে। বললেন, ”নিচে এসো, গাড়িতে ওঠো!” তার পর সারা রাত গাড়ি নিয়ে মুম্বই চষে বেড়ালেন আর ডি। আর গুলজারকে শুনিয়ে গেলেন একটার পর একটা ছবির জন্য বাঁধা গান! এই পাগলামিকে অনেকেই বলবেন সৃষ্টিশীলতা! যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা বলবেন, এটাই আর ডি বর্মন!
আর ডি বর্মন এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিংবদন্তি শিল্পী ডি বর্মনের সুরের সাগরের ডুব দেয়নি এমন সংগীত প্রেমী মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। ফল্গুধারা মতো বয়ে চলেছে তার সুরের জাদু। বন্ধত্ব হোক কিংবা প্রথম প্রেমে পড়া বা দুঃখ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তার গান আমাদের মুগ্ধ করেচলেছে।