শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

মুদী দোকান চালিয়ে মাধ্যমিকে ৬৫৩,স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার

News Sundarban.com :
জুন ৭, ২০১৮
news-image

বাবা কলকাতায় একটি দোকানের কর্মচারী,মা আশাকর্মী।সকাল হলেই জীবন জীবিকার তাগিদে বাড়ির বাইরে যেতেই হয়। ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ীর কাছেই রাস্তার পাশে একটি মুদীদোকান চালিয়ে গৃহস্থের সমস্ত কাজ সেরে ভাইকে স্কুলে পাঠিয়ে নিজেই স্কুলে যায়।দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং থানার ঘোষ পাড়ার মেয়ে সুলগ্না মল্লিক এবার ক্যানিং দ্বারিকানাথ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল।স্কুলের অন্যান্যদের থেকে  সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সুলগ্না মাধ্যমিকে সবকটি বিষয়ে লেটার সহ পেয়েছে-৬৫৩।  বাংলা-৮৩,ইংরাজী-৮৬,অংক-১০০,জীবন বিঞ্জান-৯৮,ভৌতবিঞ্জান-৯৮,ইতিহাস-৯১,ভুগোল-৯৭।


বড় হয়ে হতে চায় একজন আদর্শ চিকিৎসক,সমাজসেবা,দরিদ্র মানুষের সেবা করার কাজে লিপ্ত হয়ে বাবা গোপাল মল্লিক ও মা স্বপ্না সাহা মল্লিকের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চায়।
ক্যানিংয়ের ঘোষপাড়ার ছোট একটি ঘরের মধ্যে চারজনের সংসার গোপাল মল্লিকের। রোজ সকালেই কলকাতায় কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেতে হয়।স্বপ্নাদেবী ও আশাকর্মী হওয়ায় তাঁকে ও সকালে যেতে হয় কাজের জন্য। নিজে এবং ছোট ভাইকে পড়িয়ে মুদি দোকান চালিয়ে যত টুকু সয়ম পেত তার মধ্যে নিজের পড়া করে সুলগ্না প্রতিদিন স্কুলে যেত।সহজ সরল সুলগ্না যে মাধ্যমিকে এত বেশী নম্বর পাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা ধারণা করে উঠতে পারেননি। শুধু বিদ্যালয় নয় সমগ্র ক্যানিং শহরের মুখ উজ্জল করেছে সুলগ্ন মল্লিক।


চিকিৎসক হতে গেলে প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। সেই অর্থের চিন্তায় মেয়ের সাফল্যে প্রথম খুশি হলে পরে চিন্তায় কি ভাবে আগামী দিনে মেয়ে কে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে চিকিৎসক করাবেন!
তবে সুলগ্নার ইচ্ছা মুদীদোকান চালিয়ে তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতেই হবে।হতে হবে আদর্শ চিকিৎসক।