বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

আরো এক বার ফিরে দেখা মান্না

News Sundarban.com :
মে ১, ২০১৮
news-image

শ্রেয়শ্রী ব্যানার্জী

তিনি ভারতের অন্যতম সেরা সঙ্গীত শিল্পীদের একজন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ অজস্র ভাষায় তিনি ষাট বছরেরও অধিক সময় সঙ্গীত চর্চা করেছিলেন। বৈচিত্র্যের বিচারে তাঁকেই হিন্দি গানের ভুবনে সবর্কালের সেরা গায়ক হিসেবে স্বীকার করে থাকেন অনেক বিশেষজ্ঞ সঙ্গীতবোদ্ধারা।মান্না দে গায়ক হিসেবে ছিলেন আধুনিক বাংলা গানের জগতে সর্বস্তরের শ্রোতাদের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও সফল সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। এছাড়াও, হিন্দি এবং বাংলা সিনেমায় গায়ক হিসেবে অশেষ সুনাম অর্জন করেছেন। মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, মুকেশের মতো তিনিও ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ এর দশক পর্যন্ত ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সঙ্গীত জীবনে তিনি সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেন। সঙ্গীত ভুবনে তার এ অসামান্য অবদানের কথা স্বীকার করে ভারত সরকার ১৯৭১ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মবিভূষণ এবং ২০০৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে সম্মাননায় অভিষিক্ত করে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান “বঙ্গবিভূষণ” প্রদান করে।
তিনি ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নক্ষত্র। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক যাঁর সুরের গতি অবাধ।তাঁর গানের মূর্চ্ছনায় আজও বিভোর আমরা। গান পাগল শ্রোতারা অনায়াসে যাঁর উদ্দেশ্যে বলতে পারেন হয়তো তোমার জন্য হয়েছি প্রেমে যে বন্য জানি তুমি অনন্য।হ্যাঁ ঠিকই বুঝেছেন তিনি আর অন্য কেউ নন,তিনি মান্না দে ।

১মে, ১৯১৯ কলকাতায় জন্ম তাঁর। কাকা সংগীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দে-র কাছে সংগীতের হাতেখড়ি।পরে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম। স্কুল-কলেজে পড়াকালীন একাধিক মঞ্চে গান গেয়েছেন তিনি। সংগীত চর্চার পাশাপাশি তিনি খেলাধূলার প্রতিও ছিলেন সমান আগ্রহশীল। সুঠাম চেহারা আর সাথে আকর্ষণীয় কন্ঠস্বর।

১৯৪২ সালে ‘তামান্না’ ছবিতে এস.ডি. বর্মনের সংগীত পরিচালনায় প্রথম প্লেব্যাক। সুরাইয়া জামাল শেখের মিলিত কন্ঠে এই ছবির ‘জাগো আই ঊষা’ গানটি খুবই জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ‘রাম রাজ্য’ ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। বিভিন্ন প্রজন্মের সংগীত পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন জোট বেঁধে।নিজেও সুর করেছেন একাধিক গানের। কখনো রাজকাপুর কখনো উত্তম কুমার এর কন্ঠে প্লেব্যাক।ভাষায় অবাধ গতি ছিল তাঁর। বাংলা, হিন্দি থেকে শুরু করে গুজরাটি, অসমিয়া, মালায়লাম, মারাঠি, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, উড়িয়া প্রভৃতি ভাষায় প্রায় ৪,০০০-এর অধিক গান রেকর্ড রয়েছে।
জনপ্রিয় গানসমূহঃ কফি হাউজের সেই আড্ডাটা; আবার হবে তো দেখা;এই কূলে আমি, আর ওই কূলে তুমি; তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়; যদি কাগজে লেখো নাম;সে আমার ছোট বোন;
সংগীত চর্চায় অবদানের জন্য তিনি বেশ কিছু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৭২ সালে ‘মেরা নাম জোকার’ সিনেমায় গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ পুরুষ কন্ঠের জন্য ফিল্ম ফেয়ার আ্যওয়ার্ড, ২০০৪ সালে জাতীয় পুরস্কার পান।তাঁর ঝোলায় ভারত সরকারের পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মান। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১১ সালে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেন। আজ সেই ১লা মে, ৯৯ বছরের শুভ জন্মদিনে শিল্পীকে আমরা স্মরণ করলাম।যদিও রাজ সিংহাসন খালি,তবু থেকে গেছে একাধিক গানের মনিমানিক্যে গাঁথা সেই মুকুট। যত দিন বাঙালি থাকবে,বাংলা গানের সমঝদারদের মুখে বারবার উঠে আসবে তাঁর নাম।