বুধবার, ২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনে মানুষের সেবার জন্য সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলেন মহিলা বিঞ্জানী গবেষক

News Sundarban.com :
এপ্রিল ১১, ২০১৮
news-image

নদী-নালা,গাছ-গাছালির জঙ্গল ঘেরা পৃথিবীর মানচিত্রে বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন।১০২টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত সুন্দরবন।বর্তমানে ৫৪টির অস্তিত্ব রয়েছে । অধিকাংশ মানুষজনের জীবিকা নির্বাহ করতে হয় সুন্দরবনের নদী-খাড়ীতে মাছ কাঁকড়া ধরে,জঙ্গলে কাঠ,মধু সংগ্রহ করে।এই জীবিকার জন্য বেশীর ভাগ সময়ই বাঘের আক্রমণে অনেকে প্রাণ হারায়। ফলে শেষ হয়ে যায় একটি পরিবার।
বৃহত্তম সুন্দরবনের বাসন্তী থানার প্রত্যন্ত গ্রাম মহেশপুর।ঐ গ্রামেরই  বিশিষ্ট শিক্ষক তথা সমাজসেবী অমল পন্ডিত। তাঁর পিতা প্রয়াত রাখাল চন্দ্র পন্ডিত এলাকায় শিক্ষার প্রসারে যশোদা বিদ্যাপীঠ নামে একটি হাইস্কুল গড়ে ছিলেন নিজের পৈতৃক ভিটের উপর।প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় মানুষজনের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গড়েছিলেন।পিতৃদেবের পথ অনুসরণ এবং প্রয়াত  শিক্ষাগুরু  অধ্যাপক সুধীন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য্যের আদর্শে আদর্শিত হয়ে অমল বাবু গত প্রায় ২০ বছর আগে নিজেই গড়ে তোলেন একটি অনাথ আশ্রম ।
এই অনাথ আশ্রমে প্রায় প্রতি বছর ২৫-৩০ জন অনাথ দরিদ্র পরিবারের শিশু,বালকদের পড়াশোনা,থাকা,খাওয়া সহ যাবতীয়  সরকারী কোনরুপ অনুদান ছাড়াই শিক্ষক তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী অমল পন্ডিত ও তাঁর কিছু শুভাকাঙ্খী,সুহৃদয় ব্যাক্তিদের সহযোগিতায় নিঃস্বার্থভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ চালিয়ে আসছেন।

সূদূর মার্কিন মূলুক থেকে
কোন এক বিশ্বস্থ যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতবর্ষের সুন্দরবনের অনুন্নত প্রত্যন্ত গ্রাম মহেশপুরে হাজীর হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোষ্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা নৃবিঞ্জান গবেষক তথা সমাজসেবী ডঃ কেলিন ডাওলার।তিনি সুন্দরবনের প্রত্যন্ত মহেশপুর গ্রামে গিয়ে অমল বাবু ও তাঁর প্রিয় ছাত্র সুন্দরবনের কবি তথা সমাজসেবী ফারুক আহমেদ সরদার এর সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি তাঁর গবেষণা কাজের পাশাপাশি সুন্দরবনের মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেন।ডঃ কেলিন ডাওলার এর কথায় আনন্দিত হয়ে অমলবাবু বলেন “আমাদের সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম গুলি ভীষণ ভাবে অবহেলিত। চিকিৎসা পরিষেবা,পানীয় জল,বিদ্যুৎ,রাস্তাঘাট,সহ জীবন-জীবিক খুবই সংকটময় পরিস্থিতি ও দুর্দিনের মধ্যদিয়ে জীবন-জীবিকা নিয়ে বেঁচে আছে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের মানুষজন। এঁদের জন্য সরেজমিনে খতিয়ে দেখে কিছু করুন। আমরা সাধ্যমতো আপনাকে সহযোগিতা করতে বদ্ধ পরিকর।”

নৃবিঞ্জান গবেষক ডঃ কেলিন ডাওলার বলেন “আমি মুলত গবেষনার কাজে ভারতে এসেছি।  সুন্দরবনের এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে আমি অভিভূত ও মুগ্ধ। সুন্দরবনের জল-জঙ্গলের মানুষের কল্যাণে যদি নিজেকে সংযুক্ত করতে পারি তাহলে আমার ইচ্ছা পূরণ হবে। তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যে আমি বাংলা ভাষা শিখেছি খুব ভালোই লাগছে বাংলায় কথা বলতে পেরে”।

অাপাতত গবেষণা এবং সুন্দরবনের মানুষের কল্যানে একবছর কাজ করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।সূদূর মার্কিন মহিলাকে নৃবিঞ্জান গবেষক ডঃ কেলিন ডাওলার কে পাশে পেয়ে আনন্দে মূখরিত সুন্দরবনবাসী

**ছবিতে ডানদিক থেকে শিক্ষক অমল পন্ডিত,কবি ফারুক আহমেদ সরদার,নৃবিঞ্জান গবেষক ডঃ কেলিন ডাওলার।