মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

স্থানীয়দের উদ্যোগে পথ হারানো বৃদ্ধ ফিরলেন পরিজনদের কাছে

News Sundarban.com :
মার্চ ২৫, ২০১৮
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ

প্রায়  মাস দেড়েক আগে পথ হারিয়ে এদিক সেদিক ঘুরতে ঘুরতে সপ্তাহ খানেক আগে ক্যানিং স্টেশনে এসে পৌঁছান বছর আশির বৃদ্ধ সুখলাল দাস। সেখানে এসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কয়েকজন স্থানীয় যুবক বৃদ্ধ এই মানুষটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখে সেখান থেকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন চিকিৎসার জন্য। দিন তিনেক চিকিৎসার পর একটু একটু করে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। এরপরই শুরু হয় পরিবারের লোকেদের খোঁজখবর। মানসিক ভাবে দুর্বল এই বৃদ্ধের কাছ থেকে খোঁজ খবর অনেক কষ্টে জোগাড় করে স্থানীয়রা সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের সাহায্যে খবর দেন ঐ বৃদ্ধের পরিবারের লোকেদের। অবশেষে শনিবার সকালে সুখলাল বাবুর ছেলে ও জামাই এসে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যান তাকে।

মাত্র কয়েকদিনেই যেন তিনি হাসপাতালের সকলের আত্মীয় হয়ে গিয়েছিলেন। পরিবারের লোকেরা না থাকলেও হাসপাতালের অন্যান্য রুগীর পরিজনরা খোঁজ খবর রাখতেন সুখলাল দাসের। খাওয়া দাওয়া থেকে ওষুধপত্র সবই সময় মতো এই বৃদ্ধকে দিতেন সকলে। কলকাতা দেখার উদ্দেশ্যে মাস দেড়েক আগে বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী থানার রংপুরের খরমপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন এই সুখলাল দাস। লেখাপড়া না জানা মানসিকভাবে দুর্বল এই বৃদ্ধ এদিক ওদিক ঘুরে অবশেষে এসে পৌঁছন শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার প্রান্তিক স্টেশন ক্যানিং এ। সেখানে দিন দুয়েক পরে থাকার পর অনাহার ও জলকস্টে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে গত কয়েকদিন চিকিৎসার পর একটু সুস্থ হলে স্থানীয়রা তার নাম, ঠিকানার খোঁজ খবর নিয়ে অবশেষে সোনামুখী থানায় যোগাযোগ করেন। শুক্রবার থানা থেকে খবর দেওয়া হয় সুখলাল বাবুর ছেলে শ্রীমন্ত দাসকে। বাবার খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই বাঁকুড়া থেকে ট্রেন ধরে শনিবার সকালে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন শ্রীমন্ত ও তার জামাইবাবু বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। সেখানে যাবতীয় সরকারী কাগজপত্র দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি করিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা, পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে খুঁজে পেয়ে খুশি সকলেই।