বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মডেলের একটি শিশুকে স্তন্যদানের ছবি নিয়ে বিতর্ক

News Sundarban.com :
মার্চ ৩, ২০১৮
news-image

সাময়িকীর প্রচ্ছদে একজন মডেলের একটি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ছবি ছাপা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

অনলাইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কেরালা রাজ্য থেকে প্রকাশিত ‘গৃহলক্ষ্মী’ নামের সাময়িকীর প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে, গিলু জোসেফ নামের একজন মডেল একটি বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সোজা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন।

ছবির ওপরে লেখা, ‘কেরালাবাসীর উদ্দেশ্যে মায়েরা বলছেন, তাকিয়ে থাকবেন না, আমরা স্তন্যপান করাতে চাই।’

ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রথম ভারতীয় কোন সাময়িকীর প্রচ্ছদে একজন নারীর শিশুকে স্তন্যপান করানোর ছবি ছাপা হলো। তবে এ নিয়ে অস্বস্তি ও বিতর্ক তৈরি হওয়ার একটি কারণ হলো, মডেল গিলু জোসেফ এখনও মা হননি।

গৃহলক্ষ্মীর সম্পাদক মনসি জোসেফ বলেছেন, মায়েরা যেন জনসমক্ষে বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারে সে ব্যাপারেই তারা জনসচেতনতা তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এক মাস আগে ফেসবুকে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর স্তন্যপান করানোর ছবি দিয়ে এ ব্যাপারে আলোচনার সূচনা ঘটান। কিন্তু ফল হয় এই যে, সেই লোকটি ও তার স্ত্রী দুজনকেই সাইবার হয়রানির শিকার হতে হয়—নারী ও পুরুষ উভয়ের দিক থেকেই এ আক্রমণ আসে। এজন্যই আমরা আমাদের সর্বশেষ সংখ্যা করেছি ব্রেস্টফিডিং ইস্যুকে কেন্দ্র করে।’

তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই ম্যাগাজিন ও মডেলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। শ্রেয়া নামে একজন বলেন, কারো কাছে এটা অরুচিকর, কারো কাছে এটা বিনেপয়সার প্রদর্শনী। আর বাচ্চার কাছে এটা খুবই সহজ সরল এবং দরকারি একটা জিনিস। এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। পত্রিকাটি ভালো কাজ করেছে।

সঞ্জয় মুখার্জি নামে আরেকজন লেখেন, ‘এটা খুবই সাহসী কাজ। এটা হয়তো মায়েদের উৎসাহিত করবে যা শিশুর কল্যাণ এবং বৃদ্ধির জন্য স্বাভাবিকভাবে করা দরকার—তা করতে।’

কিন্তু অনেকেই এজন্য মডেল ব্যবহার করার সমালোচনা করেছেন। ব্লগার অঞ্জনা নায়ার লেখেন, ‘যখন পত্রিকাটি একজন আসল মায়ের বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ছবি পত্রিকার ভেতরে ছেপেছে এবং প্রচ্ছদে ছেপেছে মডেলের খোলা বুকে বাচ্চাকে ধরে রাখার ছবি—তখনই এটা সস্তা সেনসেশনালিজম ও শোষণের পথে চলে যাচ্ছে।’

তবে মডেল গিলু জোসেফ বলেন, ‘আমি জানতাম এর সমালোচনা হবে, কিন্তু মায়েরা যাতে গর্বের সঙ্গে স্তন্যপান করাতে পারেন সেজন্য আমি হাসিমুখেই এটা মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’