শুক্রবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষজন বড় অসহায়

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ:

 বেদনাদায়ক জীবন যুদ্ধে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত মানুষদের কে বাঁচার তাগিদে জীবন সংগ্রামে ডাঙায় বাঘ এবং জলে কুমীরের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় আমরণ।দীর্ঘকাল এ এক করুন জীবন যন্ত্রণার খেলার আসর।লোনাজল-জঙ্গল-মানুষ-বাঘ-কুমীর-গেওয়া-গরান,হেতাল,সুন্দরী গাছের সম্বৃদ্ধ ছোট বড় ১০২টি দ্বীপ নিয়ে সুন্দরবন প্রকৃতির নানা প্রতিকুলতার সাথে লড়াই করে টিকে আছে।পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন শুধুমাত্র রাজ্যের অহংকার নয়,সমগ্র ভারতবর্ষ সহ পৃথিবীর অহংকার ও অলঙ্কার।অলঙ্কার যেমন মাতৃদেহের রূপের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তোলে ঠিক তেমনই পৃথিবীর পর্যটন মানচিত্রে এক বিশাল অলঙ্কার সুন্দরবন।যদিও সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় অর্ধেকেরও অনেক বেশী প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের অধীনস্থ।সুন্দরবনের যম নরখাদক হিংস্র রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের লোকালয়ে এসে হাঙ্গামা ব্যাপার টা নতুন নয়।সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে জীবন-জীবিকার তাগিদে স্থানীয় লোকজন সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে কিংবা নদী-খাড়ীতে কাঁকড়া-মাছ-মধু-কাঠ সংগ্রহ করতে যেতে হয়।বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বাঘের অাক্রমণে মৃত্যু হয়।আবার কখনও কখনও জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্রামে প্রবেশ করে গরু-ছাগল-মানুষ টেনে নিয়ে যায়।এরজন্য মুলতঃ দায়ী জঙ্গল মানুষ জনই।বাস্তুতন্ত্র নানান কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে।রয়েছে প্রকট খাদ্যের অভাব। এছাড়াও চোরা শিকারীদের দাপটে বন্যপ্রাণীদের জঙ্গলে বসবাস করা অযোগ্য হয়ে উঠেছে।তারপর প্রজননেরও সমস্যা রয়েছে।পৃথিবীর বুদ্ধিমান জীব মানুষ যেমন বাঁচতে চায় তেমনই বন্যপ্রাণীরাও প্রাণ বাঁচার তাগিদে জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে আসে।মানুষ বাঘকে যেমন ভয় পায় ঠিক তেমনই বাঘও মানুষকে ভয় পায়।প্রাণবাঁচানোর তাগিদে যখন জঙ্গলের বাইরে এসে অভুক্ত থাকতে হয় তখনই খিদের জ্বালায় লোকালয়ে হানা দিয়ে ছাগল,গরু,মানুষ টেনে নিয়ে যায়।সম্প্রতি জলের কুমীরও লোকালয় পুকুরে ঢুকে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে ক্যানিং,বাসন্তী,সোনাখালি,ঝড়খালি,গোলাবাড়ীতে।কুমীরের তান্ডবের পাশাপাশি সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছে।সেইসব মানুষের কথা একান্তভাবে ভাবার প্রয়োজন আছে প্রশাসনের।সেইসব প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজনের জীবনযাত্রার কোন মান নেই।নদীর লোনাজলে মাছ,কাঁকড়া ধরে তাঁদের কে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।বন্যার সময় নদীর বাঁধ ভেঙে জমিতে লোনাজল ঢুকে ফসল নষ্ট হয়।বিগত ২০০৯ সালে ভয়ঙ্কর আয়লা ঝড়ের তান্ডবে সমগ্র সুন্দরবনের ৩৫০০ কিমি নদীবাঁধের মধ্যে ৭৭৮ কিমি নদীবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।অনেক চাষযোগ্য জমি নদী গহ্বরে তলিয়ে যায়।প্রকৃতির এতসব উপেক্ষা অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে ঝঞ্ঝার সাথে লড়াই করে টিকে অাছে সুন্দরবনের জনপদ।বাঘ কুমীর যাঁদের নিত্য সঙ্গী।যারফলে লড়াই এবং সহবস্থান দুই ই চলে সুন্দরবনে।প্রত্যন্ত সুন্দরবনের নদীতে একজন মহিলা জীবিকার তাগিদে সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে এক-দুশো মীন ধরে যখন বিক্রি করেন তখন হাতে পায় মেরে কেটে ১৫০থেকে ২০০টাকা। এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবনধারণ করতে হয় সুন্দরবনের একটা বড় অংশের মানুষজনের।তাঁদের দাবী রাজ্যসরকার আমাদের দিকে যদি সামান্য মুখতুলে তাকাতো তাহলে হয়তো আমাদের মতো প্রান্তিক মানুষদের জীবনে একটু গতি আসতো।তারা আরো বলেন সরকার তো বিভিন্ন খাতে প্রচুর টাকা বরাদ্দ করে থাকেন।সেই সব বরাদ্দকৃত খাত থেকে যদি আমাদের মতো প্রান্তিক মানুষজনের কথা ভাবেন তাহলে প্রচুর মানুষ উপকৃত হবেন।প্রসাশন ঠিকমতো নজর দিলে বাঘ-কুমীরের আক্রমণ কমবে এবং জঙ্গলের প্রাণীর লোকালয়ে আসা বন্ধ হবে।

ছবি ঃ জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দত্তা নদীতে মীন ধরছেন জনৈকা বৃদ্ধা।