সোমবার, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মেহুল চোকসির কলকাতা সহ দেশের ৪৫টি জায়গায় হিরে ও স্বর্ণ বিপণীতে হানা দিল ইডি

News Sundarban.com :
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮
news-image

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক প্রতারণাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত মেহুল চোকসির কলকাতা সহ দেশের ৪৫টি জায়গায় বিভিন্ন হিরে ও স্বর্ণ বিপণীতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।টানা চারদিন ধরে এই মামলায় মেহুল চোকসির বিপণীতে হানা দিয়ে চলছে ইডি। এদিন কলকাতায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। সল্টলেকে সিটি সেন্টার-১ এবং নিউটাউনে সিটি সেন্টার-২ তে সংস্থার অলঙ্কার বিপণীতে হানা দেয় ইডি আধিকারিকরা। প্রত্যেক জায়গায় নথি পরীক্ষা করা হয়। এই বিপণীর মালিক মেহুল চোকসি, যাঁর বিরুদ্ধে ভাগ্নে নীরব মোদির সঙ্গে মিলে সাড়ে এগারো হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্কিং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, দেশ ও বিদেশের প্রায় দু’শোটি ভুয়ো সংস্থা রয়েছে নীরব-মেহুলদের। যার মাধ্যমেই কর হতো আর্থিক লেনদেন। গোটা বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে ইডি ও আয়কর।
গতকাল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে মেহুল চোকসির সংস্থা গীতাঞ্জলির স্বর্ণ বিপণিতেও হানা দেয় ইডি।কলকাতার পাশাপাশি, হানা দেওয়া হয় ছত্তিশগড়, পঞ্জাব ও গুজরাতে চেকসির সংস্থা গীতাঞ্জলি-র শোরুমে। গতকাল রাত নটা নাগাদ, রায়পুরের একটি শপিং মলে ওই বিপণিতে হানা দেয় ইডি-র সাত সদস্যের এক তদন্তকারী দল। রাতভর ওই শোরুমে তল্লাশি চলে। মোট ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার হিরের গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। আবার, রবিবার আমদাবাদের সিজি রোডে এবং চণ্ডীগড়ে এলান্তে শপিং মলে গীতাঞ্জলি জেমসের দুটি শোরুম হানা দেয় ইডি। বহু মূল্যবান অলঙ্কার বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার দিল্লি, সুরাট, মুম্বইয়ে নীরব মোদির বিভিন্ন সম্পত্তিতে তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ১৭টি জায়গা থেকে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার সোনা, হিরে ও গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।
ইডি সূত্রে দাবি, মেহুল চোকসি ও নীরব মোদির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ইডি এবং আয়কর দফতর এই কেলেঙ্কারির তদন্তে বিশেষ দল গঠন করেছে। ইডি সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত তল্লাশিতে ৫ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার সোনা, হিরের গয়না, রত্ন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আয়কর দফতর সূত্রে দাবি, শনিবার মেহুল চোকসির সংস্থার ৯টি অ্যাকাউন্ট অ্যাটাচ করা হয়েছে। এছাড়া নীরব মোদী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ২৯টি সম্পত্তি ও ১০৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।