বৃহস্পতিবার, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভারতে প্রথম নারী নাপিত হলেন শান্তাবাই যাদব

News Sundarban.com :
জানুয়ারি ১৭, ২০১৮
news-image

ভারতে প্রচলিত লৈঙ্গিক ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে আসা প্রথম নারী নাপিত হলেন শান্তাবাই যাদব। তার পুরো জীবনটাই সংগ্রামমুখর।মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের অধিবাসী শান্তা বাঈয়ের বিয়ে হয় ১২ বছর বয়সে। তার স্বামী ছিলেন একজন কৃষক। তিনি খণ্ডকালীন নাপিতের কাজও করতেন। ভালই চলীছল তাদের জীবন।

হঠাৎ করেই তার স্বামী একদিন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে দারুন বিপদে পড়েন শান্তাবাঈ।তার দেবররা স্বামীর মৃত্যুর পর দেনার দায়ে তাদের জমিটা কেড়ে নেন। শান্তাবাই চার মেয়ে নিয়ে ঘর ছাড়েন। শুরু হয়ে মেয়েদের নিয়ে তার অন্যরকম সংগ্রামের জীবন। প্রথমে তিনি একটি ফার্মে শ্রমিকের কাজ নেন। কিন্তু যা আয় হতো তা দিয়ে জীবন নির্বাহ করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছিল তার। কখনও কখনও দুইবেলা কখনও আবার খাবার জুটতো না পরিবারটির। সব আশা ছেড়ে দিয়ে এক পর্যায়ে চার মেয়ে নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করার চিন্তাও করেন। এই সময় গ্রামের অনেকে তাকে স্বামীর পেশা অর্থাঁৎ চুল কাটার পরামর্শ দেন।

শান্তি বাঈয়ের স্বামী মারা যাওয়ার পর গ্রামে কোন নাপিত ছিল না। শান্তা এমন প্রস্তাবে চিন্তায় পড়ে যান। নারী নাপিতের কাছে কে চুল কাটতে আসবে এটা তাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। অবশেষে সব চিন্তা ঝেড়ে তিনি নাপিতের কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।শান্তা বলেন, আমার কাছে তখন দুইটি পথ খোলা ছিল। এক, মেয়েদের নিয়ে আত্মহত্যা করা, দুই, নাপিতের কাজ করে পরিবারের সবাইকে বাঁচানো। আমি দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিই। ধীরে ধীরে শান্তার ক্রেতা বাড়তে থাকে। শান্তা সফল নাপিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। এখনও অনেক ক্রেতা আছেন যারা তার কাছেই চুল কাটান, দাড়ি সেভ করেন। শান্তা এখন অর্থনৈতিকভাবে একজন স্বাবলম্বী নারী। তিনি তার সব ধরনের ধার দেনা পরিশোধ করেছেন, মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ১০ জন নাতি-নাতনিও রয়েছে তার। এরকম সংগ্রামপূর্ণ জীবনের জন্য শান্তা বাঈ ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পুরষ্কৃতও হয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নাপিতের কাজ চালিযে যেতে চান শান্তাবাঈ।

-দ্যবেটারইণ্ডিয়া