শুক্রবার, ১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনের সিংহদুয়ার ক্যানিং-ভাঙনখালি রেলসম্প্রসারণ কি অধরা রয়েই যাবে?

News Sundarban.com :
জানুয়ারি ১১, ২০১৮
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ

পৃথিবীর মানচিত্রে সেরা বৃহত্তম ব-দ্বীপ,জলে জঙ্গলে ,নদীনালা বেষ্টিত বাদাবন বিশ্বের অন্যতম হিংস্র সেরা বয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাসভুমি,পর্যটন মানচিত্রে অপরিসীম গুরুত্বপুর্ণ অন্যতম স্থান সুন্দরবন।
স্বাধীন ভারতের ৭১ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আজও অবহেলিত প্রত্যন্ত সুন্দরবনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিতাপের বিষয় ১৯ টি ব্লক নিয়ে গঠিত সুন্দরবন। যেখানে প্রায় ৫০লক্ষের অধিক মানুষের বসবাস। যাঁদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হতে পারতো রেলযোগাযোগ। একদিকে পর্যটনপ্রেমীরা সহজেই সুন্দরবনে পৌঁছে যেতে পারতেন এবং অতি সহজেই সুন্দরবনের মানুষের অার্থসামাজিক পরিকাঠামো ঊল্লেখ যোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারতো। যদিও বহু দেরীতে রেললাইন সম্প্রসারণের দাবী উঠেছে। যতদুর জানা যায় ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন লোকসভার অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের সুন্দরবন বাসীদের অন্যতম প্রিয় উৎসব “সুন্দরবন কৃষ্টি মেল ও লোক সংস্কৃতি উৎসব” এ গিয়েছিলেন।তৎকালীন সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের সদ্স্য লোকমান মোল্ল্যা “লক্ষাধিক সুন্দরবনবাসীর গণস্বাক্ষর সম্মিলিত ক্যানিং-সোনাখালি রেললাইন সম্প্রসারনের আবেদন পত্র তুলে দেন লোকসভার অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। দিল্লীতে ফিরে সোমনাথ বাবু ২জানুয়ারী২০০৯ এ তদান্তীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব কে চিঠি লেখেন এই রেলপথের গুরুত্ব বুঝে। পরবর্তীকালে কেন্দ্রের সরকার পরিবর্তন হয় এবং বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদান্তীন রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী২০০৯ এর ১৪ ই নভেম্বর ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে মাতলা নদীর উপর রেলব্রীজের শিলান্যাস করে কাজ শুরু করেন। সেই মুহুর্তে বহু মানুষের দোকান,ঘর,বাড়ী ভাঙা হয় । ক্ষতিগ্রস্থ হয় বহু মানুষ। তা সত্বেও সাধারণ মানুষজন নির্দ্ধিদায় আনন্দের সহিত মেনে নিয়েছিলেন প্রত্যন্ত সুন্দরবনে রেল সম্প্রসারনের কথা চিন্তা করেই।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সুন্দরবনের লোনাজল আর মিঠে মাটির বাসিন্দারা আশায় আশায় দীর্ঘ অপেক্ষায় আজও তাকিয়ে থাকেন চাতকের ন্যায়। কিন্তু মাতলা নদী দিয়ে অবধারিত জোয়ার-ভাটার স্রোত বয়ে গেলেও রেলব্রীজ এবং রেললাইন সম্প্রসারনের কাজ সেই তিমিরেই রয়েই গেছে।
সুন্দরনের ভূমিপুত্র লোকমান মোল্ল্যা সুন্দরবন বাসীদের করুণ দুঃখ-দুর্দশার কথা মাথায় রেখে আবার নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে ২০১৩ সালে দিল্লীতে দরবার করেন রেলরাষ্ট্র মন্ত্রী অধীর চৌধুরীর দফতরে। লোকমান বাবু একান্ত অনুরোধে রেলরাষ্ট্রমন্ত্রী অধীর চৌধুরী ২০১৩ সালে ২৪ ডিসেম্বর মাতলা রেলব্রীজ পরিদর্শন করেন বিভাগীয় আধিকারীকগণ দের সাথে নিয়ে এবং ঐ দিনই “সুন্দরবন কৃষ্টি মেলা ও লোক সংস্কৃতি উৎসব” মঞ্চে ঘোষণা করেন “সুন্দরবনের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করবো এবং ব্রীজের বন্ধ হয়ে যাওয়া কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন”।
পরবর্তীকালে আবার ২০১৪ সালে কেন্দ্রে সরকার পরিবর্তন হয় ফলে সুন্দরবনের সিংহদুয়ারে রেল যোগাযোগ অধরাই রয়ে যায়।
অাবার সুন্দরবন বাসীর দুঃখ-দূর্দশার গণস্বাক্ষর সম্মিলিত আবেদন পত্র সহ পতিত নির্মাণের ছবি সহ বিশিষ্ট সমাজসেবী লোকমান মোল্ল্যা কেন্দ্রীয় কৃষি রাষ্ট্রমন্ত্রী এস এস আলুওয়ালিয়ার দ্বারস্থ হন ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর।
কৃষি রাষ্ট্রমন্ত্রী সুন্দরবন বাসীদের কথা ভেবেই গুরুত্ব সহকারে নিজেই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু কে সুন্দরবন বাসীদের আবেদন পত্র সহ চিঠি লেখেন এবং ২০১৬ সালে ৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষি রাষ্ট্রমন্ত্রী লোকমান মোল্ল্যা কে সাথে নিয়ে সরাসরি রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু র দফতরের হাজীর হয়ে উল্লিখিত চিঠির কপি তাঁর হাতে তুলে দিয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন।
রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু বিভাগীয় আধিকারিদের তাৎক্ষনিক নির্দেশ দেন অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য।
২০১৬-২০১৭ সালে রেল বাজেটে নথীভুক্ত হলেও উল্লেখযোগ্য ভাবে বরাদ্দ হয়নি।
জানা গেছে প্রাথমিক ভাবে ক্যানিং-ভাঙনখালি রেল সম্প্রসারনে বড় বাধা জমি সমস্যায়।
এ বিষয়ে প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য লোকমান মোল্ল্যার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন “আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীন ভারতের দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও বিশ্বের বিষ্ময় পৃথিবীর সেরা বাদাবন সুন্দরবনের সিংহদুয়ারে আজও রেল যোগাযোগ হল না। বহুবার বহুভাবে আবেদন নিবেদন করেও সুন্দরবন বাসীর স্বপ্ন আজও অধরা রয়েই গেল। যতদিন না দাবী পূরণ হচ্ছে ততদিন দক্ষিণ সুন্দরবন বাসীরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস আগামী রেল বাজেটে সুন্দরবন বাসীর অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকা রেল সম্প্রসারন সর্ম্পকে কেন্দ্র সরকার আশার আলো দেখাতে পারেন।
প্রাথমিক ভাবে ক্যানিং-ভাঙনখালি ৪-৮৪ কিমি কাজ শুরু হওয়ার কথা। তারপর ভাঙনখালি-বাসন্তী ১৪-৩ কিমি এবং বাসন্তী-ঝড়খালি ২৩ কিমি , রেল লাইন সম্প্রসারন হলে পর্যটন মানচিত্রে নতুন দিশার আলো দেখা দেবে”।
সুন্দরবনবাসীদের একান্ত জিঞ্জাসা রেল মন্ত্রনালয়ের কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ হওয়ার পর ও কোন অঞ৳জাত কারণে সুন্দরবনের সিংহদুয়ার ক্যানিং থেকে রেল লাইন সম্প্রসারনের কাজ বন্ধ?