শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সাগর মেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে সাগরদ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র

News Sundarban.com :
জানুয়ারি ১০, ২০১৮
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ: বর্তমানে সাগরদ্বীপের মূল অর্থনীতি চাষবাসের উপর নির্ভর। এই অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ভাবনার বাস্তবায়ন হয়। সম্প্রতি সাগর পরিদর্শনে গিয়ে সাগরসঙ্গমে দাঁড়িয়ে ঘোষনা করেছিলেন “সাগর কে পর্যটন কেন্দ্রে রুপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেইমতো তিনি নির্দেশও দেন মূখ্যসচিব মলয় দে কে। সমুদ্রতটে বিস্তৃত ২৭ কিমি সৌন্দ্যর্যায়ন করার। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা কে বাস্তবে রুপান্তরিত করতে তৎপরতার সাথে কাজ করছে জেলাপ্রশাসন। আর এই ঘটনা ঘটলে আমূল বদলে যেতে পারে সাগরের অর্থনীতি। বদলে যেতে পারে জনজীবনও। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই পরিবেশের কোন ক্ষতি না করেই যদি অদূর ভবিষ্যতে সাগরদ্বীপকে ঘিরে সারাবছর জনসমাগম হয় এবং সাগর জেলার তথা রাজ্যে পর্যটন মানচিত্রে স্থান লাভ করে তবে প্রত্যন্ত এই সাগরদ্বীপ বাসীদের কাছে তা হবে এক পরম পাওয়া। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সাগরদ্বীপের আমূল পরিবর্তন ঘটে চলেছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রী(প্রাক্তন) মনীশ গুপ্তর হাত ধরে সাগরবাসী পেয়েছে ২৪ ঘণ্টার বিদ্যুৎ পরিষেবা। হয়েছে বেশ কিছু স্থায়ী আবাসন নির্মাণ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর চোখ দিয়ে সাগর এখন এক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। কাকদ্বীপ লট নং ৮ দিয়ে মুড়ি নদী পার হয়ে কচুবেড়িয়া পৌঁছাতেই চোখে পড়লো সাগর যাওয়ার মুল গেট। মূল মেলাপ্রাঙ্গনে পৌঁছানোর জন্য ঝাঁ চকচকে ২৯ কিমি পিচের রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে বাস,অটো,ম্যাজিক সহ নানান পরিবহন। বেশকিছুটা রাস্তার দুপাশে রয়েছে ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ। এ এক অনন্য মনোরম পরিবেশ। কপিলমুনি আশ্রম আলোক শয্যায় সেজে উঠেছে। ইতি মধ্যে লাখো লাখো পূণ্যার্থী ভীড় এড়াতে সাগরসঙ্গমে হাজির হয়েছেন। আবার ফিরে যাবেন সকলে। কয়েকদিন বেশ ভালো রোজগারের পর আবার অনিশ্চিত জীবনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য সাগরবাসীর জীবনযাত্রা।
এইখান থেকে মূখ্যমন্ত্রীর ভাবনার বাস্তবায়ন শুরু করতে চায় রাজ্যসরকার। কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী চান সাগরে সারা বছর ধরেই পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠুক,লোকের আয় বাড়ুক,সাগরদ্বীপ স্থান পাক পর্যটন মানচিত্রে। সাগর মেলা কে মধ্যমনি করে সাগরদ্বীপ গড়ে উঠুক পর্যটনের এক অন্যতম মিলন তীর্থস্থান। অার সেই জন্যই তিনি নির্দেশ দিয়েছেন পরিকাঠামো গড়ে তোলার,স্থায়ী আবাস,লজ,হোটেল সহ আরও অনেক কিছু।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই গভীর চিন্তাভাবনা প্রধান বাধার কারণ হয়ে উঠতে পারে মুড়ি নদী। যার প্রধান সমস্যা পলি জমে যাওয়া। এই মুড়ি নদীতে প্রতিবছর ড্রেজিং করতে খরচ হয় কোটি কোটি টাকা। ভাটার সময় তীর্থযাত্রী সহ সাধারন মানুষ কে নদীর দুপারে আটকে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। এছাড়াও রয়েছে পরিবহন সমস্যা। স্থানীয় মানুষজন প্রতিদিন পেটের টানে মুড়ী নদী পারাপার হয়ে কলকাতায় আসেন কাজের সুত্রে। এমন কি সরকার মুড়ি নদীর উপর ব্রীজগড়ারও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। ব্রীজ হলে সাগরে যাতায়াতের আর কোন সমস্যা থাকবে না। মুখ্যমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে সমুদ্র বন্দর ও। সারাটা বছর সাগরসঙ্গমে পূণ্যস্নান করে মোক্ষলাভের আশায় ভরে উঠবে সাগর পর্যটন কেন্দ্র। একদিকে যেমন স্থানীয় বাসিন্দাদের দুঃখ দুর্দশা ঘুঁচবে তেমনই আবার রাজকোষ ভরপুর হয়ে উঠবে,হবে নবদিগন্তের এক মহান বৃহত্তম সূর্যোদয় ।
“সব তীর্থ বার বার/সাগর এক বার” এই প্রাচীন প্রবাদ বাক্য ভুলে বলতে হবে “সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত- – – ”