বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

দস্যু রত্নাকর থেকে বাল্মীকি আজ বড় অসহায়

News Sundarban.com :
জানুয়ারি ৬, ২০১৮
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ

একদা সুন্দরবনের বিখ্যাত জলদস্যু ও ডাকাত ছিল। সময়ের পরিবর্তনে আমূল পরিবর্তন হয়ে দস্যুরত্নাকর থেকে বাল্মীকি হয়ে ওঠেন সুন্দরবন তথা পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ডাকাত গোকুল নস্কর। ছয় ভাইবোনের বড় গোকুল। এক সময় দুই ২৪ পরগণা সহ হাওড়া,হুগলী,মুর্শিদাবাদ,মেদিনীপুর,জলপাইগুড়ি,বিহার,উড়িষ্যা,উত্তরপ্রদেশ সহ সুন্দরবনের নদীতে ডাকাতি করাই ছিল পেশা। ৭৮টি ফৌজদারি কেসের আসামী গোকুল নস্করের বাড়ী দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার কুলতলি থানার ডোঙাজোড়া গ্রামে। প্রায় ত্রিশ বছর আগে তৎকালীন কুলতলি থানার ওসি সোমদেব ব্যানার্জীর একান্ত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় ডাকাতি ছেড়ে একটি আশ্রম গড়ে মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন একদা সুন্দরবনের ভয়ানক ডাকাত ও জলদস্যু গোকুল নস্কর। পরিবর্তনের মতো পরিবর্তন হয়ে এলাকায় একটি স্কুল গড়ে তোলেন দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। ডাকাতি পেশা থেকে আমূল পরিবর্তেনর পর তিনি এলাকা এবং বাইরে পরিচিত হলেন বাল্মীকি,মহারাজ গোকুল নামে। শরীর ভালো থাকায় আশ্রম,স্কুল সব ঠিক ভাবেই চলছিল বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া অনুদান নিয়ে। ইদানিং অভাবের তাড়না স্কুল বন্ধ প্রায় তিনবছর। পাশাপাশি নিজের সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সক্রিয়। বয়স প্রায় ৮০,শ্বাস কষ্ট সহ নানান ধরনের  বার্ধক্য জনিত অসুখ গ্রাস করে একদা সুন্দরবনে ত্রাস গোকুল ডাকাত  বর্তমানে অসহায়। ইদানিং তাঁর একমাত্র চিন্তা বেঁচে থাকাকালীন নিজের হাতে গড়া স্কুল অভাবের তাড়নায় বন্ধ। আগামী দিনে হয়তো এই আশ্রম ও বন্ধ হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে কি হবে এই আশ্রম ও স্কুলের ?কে দেখবে?এর ভবিষ্যত বা কিই হবে?এমনই চিন্তায় রোগগ্রস্ত হয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন । তাঁর একটাই আবেদন সরকার ,কোন সহৃদয় ব্যাক্তি কিংবা কোন সংস্থা যদি আশ্রম ও ইস্কুলে দায়িত্ব নিতেন তাহলে আমার জীবন ধন্য হতো।
অসহায় একদা সুন্দরবনের ত্রাস দস্যুরত্নাকর থেকে বাল্মীকি হওয়া ডাকাত গোকুল নস্কর চাতকের মতো তাকিয়ে কি হবে তাঁর এই বিশাল সাম্রাজ্যের?