বৃহস্পতিবার, ৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বড়দিনে ওরা গভীর অন্ধকারে

News Sundarban.com :
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭
news-image

সুভাষ চন্দ্র দাশ

বড়দিনের অানন্দে ওদের মুখ মলিন। ওদের কোনদিন উৎসব আনন্দমুখর দিন নেই। দুবেলা দুমুঠো অন্নের জন্য সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকতে হয় পথচারী মানুজনের দিকে। কোন রকমে একটু সামান্য আশ্রয়স্থল আছে তাও সেইটুকু ভগ্নদশায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জীবনতলা থানার গৌড়দহের বাসিন্দা আরতি হালদার।আরতিদেবীর স্বামী মারা গেছে আজ থেকে প্রায় ৩০বছর আগে। দুই ছেলে কে কোলে-পিঠে মানুষ করার জন্য অজস্র পরিশ্রম করেছেন। বড়ছেলে তপন হালদার ভ্যান চালিয়ে কোন রকমে নিজের অভাবের সংসার চালান। আর অারতি দেবীর ছোট ছেলে স্বপন হালদার (৩৮) প্রতিবন্ধী । তাকে নিয়েই বৃদ্ধা আরতি দেবীর দুঃখের শেষ নেই। প্রতিদিন ছোট ছেলে স্বপন কে প্রতিবন্ধী গাড়ীতে করে প্রায় প্রায় পাঁচ কিমি পথ হেঁটে গিয়ে ভিক্ষা করে কোনরকমে সংসার চালান। আরতি দেবীর করুণ আপেক্ষ “আমার এই অভাগা স্বপনের দিকে কেউ কোন দিন মুখ তুলে তাকালো না। আমরা বড় অসহায় ,দরিদ্র তাই আমাদের কথা কোন রাজনৈতিক প্রশাসনিক কর্তারা কোন দিনের জন্য দুঃখ,দুর্দশার কথা বিবেচনা করার অবকাশ পাননি। আমি মারা গেলে আমার এই অভাগা সন্তানের কি হবে?আজও পর্যন্ত কোন সরকারি অনুদান পর্যন্ত পেলাম না। এমন কি যে ভাঙাচোর প্রতিবন্ধী গাড়ী আছে ,সেই গাড়ী বনহুগলী থেকে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দিয়েছিল। আমি মা হয়ে ও আমার এই সন্তানের মৃত্যু কামনা করি। তার এক মাত্র কারণ আমার বয়স হয়েছে কদিন আর বাঁচবো?আমি আগে মারা গেলে ওর কে দেখবে!তাই ভগবানের কাছে আমার একান্ত প্রার্থনার আমার প্রতিবন্ধী অসহায় স্বপন কে আর কষ্ট দিয়ো না বলেই কেঁদে ফেললেন।
অসহায় প্রতিবন্ধী যুবকের মায়ের কানা শুনে আর এক প্রতিবন্ধী যুবক তথা জীবনতলা থানার মঠের দিঘী পল্লি সেবাসদনের সম্পাদক খোকন মন্ডল বলেন “এই ভাবেই কত শত স্বপন যে পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে তার কোন হিসাব নেই। আমরা প্রতিবন্ধী,তাই আমাদের কোন দাম, মান,মর্যাদা নেই। আমরা বড়ই অসহায়। আমাদের কাজ আমাদের কে জোর করে ছিনিয়ে নিতে হয় । কেউ সহজেই দেয় না।তবে আমিতো নিজেও একজন প্রতিবন্ধী তাই স্বপনের মায়ের সাথে কথা বলে আমার “মঠের দিঘী পল্লী সেবাসদন” থেকে সাহায্য করবো যাতে করে স্বপন ও তাঁর মা আরতি দেবী ভালো ভাবে চলতে পারেন। ।