বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আবারও গণহত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ওপর

News Sundarban.com :
নভেম্বর ১৭, ২০১৭
news-image

আবারও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো জাতিগত নিধনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইআরডব্লিউ)।

দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়াসহ নারী ও শিশুদের ওপর ব্যাপক গণধর্ষণ চালিয়েছে বলে সংস্থার দুটি পৃথক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মিয়ানমার সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনে দেশটির সেনাদের ‘নির্দোষ’ দাবি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফরের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দু’টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

এইআরডব্লিউর ‘জরুরি অবস্থায় নারীদের অধিকার’ বিষয়ক গবেষক স্কাই হুইলার তার প্রতিবেদনে বলেছেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে লাখ-লাখ রোহিঙ্গা সহিংসতা সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। যারা পালাতে পারেনি, তাদের শিকার হতে হয়েছে অবর্ণনীয় নৃশংসতার। মিয়ানমারের মাটি থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের চিরতরে নিধন করার অভিযানে সে দেশের সেনাবাহিনীর ব্যবহার করা একটি অন্যতম অস্ত্র হলো গণধর্ষণ। তবে ধর্ষণের সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী সীমাহীন নৃশংসতা ও নারকীয় বর্বরতার দেখিয়েছে, তা মানব মনের ভয়াবহ দুঃস্বপ্নকেও হার মানায়।

ওই প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, শুধু ধর্ষণ আর ধরপাকড়েই অভিযান সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিযানের সময় নিরপরাধ মানুষজনকে ধরে আগুন দেওয়া ঘরগুলোতে ছুড়ে ফেলা হত। তারা সেখানেই জীবন্ত জ্বলে-পুড়ে মারা যেত। এমনকি পলায়নরত রোহিঙ্গাদের পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিছু নারী-পুরুষকে একসঙ্গে আটক করে পুরুষদের আলাদা করে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর নারীদের ওপর নেমে আসে গণধর্ষণের বিভীষিকা। বাবার সামনে মেয়েকে, মেয়ের সামনে মাকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। গণধর্ষণের তীব্রতা সইতে না পেরে অনেক নারীই মারা যান।

স্কাই হুইলার আরও জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা অগণিত নারী ও কিশোরী ভয়াবহ মানসিক বৈকল্যে ভুগছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক ফরটি রাইটস যৌথভাবে ৩০ পৃষ্ঠার আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রাখাইনে নির্যাতনের শিকার দুইশ’ নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি ওই প্রতিবেদনেও মিয়ানমার সেনাদের হাতে রোহিঙ্গা গণধর্ষণের ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে আসে।

এতে বলা হয়, গত বছরের ৯ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং এ বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপকভিত্তিক ও পদ্ধতিগত আক্রমণ’ চালায়। সংস্থা দুটি তাদের প্রতিবেদনে এ সময়কার ঘটনাকে স্পষ্টতই ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও জাতিগত নিধন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ কাজে শুধু দেশটির সেনাবাহিনীই নয়, সেখানকার বৌদ্ধরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।

গত আগস্টের শেষের দিকে তিনটি গ্রামে ব্যাপক গণহত্যা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘সবাইকে হত্যা করা শেষে লাশগুলো স্তূপ করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেয় সেনারা। নারীদের ধরে এনে আলাদা করে চালানো হয় গণধর্ষণ। একেকজন নারীর ওপর পাঁচ বা তারও অধিক সেনা সদস্য ঝাঁপিয়ে পড়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। সূত্র: এএফপি ও নিউইয়র্কস টাইম।