সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কেন আলোচনায় ঐতিহাসিক চরিত্রনির্ভর ছবি ‘পদ্মাবতী’

News Sundarban.com :
নভেম্বর ১৪, ২০১৭
news-image

বলিউডে এখন আলোচনায় ঐতিহাসিক চরিত্রনির্ভর ছবি ‘পদ্মাবতী’।এই ছবি নিয়ে বিতর্কের উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিবাদ।

আগামী ১ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে রাজপুত সংগঠনগুলো এই ছবির বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিবিসি বলছে, অনেক জায়গায় বিজেপি নেতারাও প্রতিবাদে গলা মিলিয়েছেন।

পরিচালক সঞ্জয়লীলা বানশালীর ‘পদ্মাবতী’ ভারতে ৭০০ বছর আগেকার চিতোরের রানী পদ্মিনীর জীবন নিয়ে তৈরি এক চলচ্চিত্র। কিন্তু কেন এই ছবির মুক্তিতে আপত্তি রাজপুত সংগঠনগুলোর।

রাজপুতানার ইতিহাস বলে, দিল্লির শাসক আলাউদ্দিন খিলজির কবল থেকে রক্ষা পেতে রানী পদ্মিনী ১৬ হাজার নারীকে নিয়ে চিতায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ‘পদ্মাবতী’ সিনেমায় তার সেই মর্যাদা ও আত্মত্যাগকে খাটো করা হয়েছে।

রাজপুতদের দাবি, ‘পদ্মাবতী’ ছবিতে রানী পদ্মীনির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন সঞ্জয়। ছবিতে রানী পদ্মীনির সঙ্গে তৎকালীন শাসক আলাউদ্দিন খিলজির প্রেম দেখিয়েছেন, যা আপত্তিকর।

তবে এ নিয়ে বিভ্রান্তি আছে খোদ ইতিহাসবিদদের মধ্যেও। কেউ কেউ বলেন, পদ্মাবতীর কথা প্রথম পাওয়া যায় মালিক মহম্মদ জয়সি নামে এক কবির কবিতায়। ১৩০৩ খ্রীষ্টাব্দে তুর্কি সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি দীর্ঘ যুদ্ধের পর চিতোর দখল করেন। আর ওই কবিতা লেখা হয় তারও ২০০ বছর পর ১৫৪০ খ্রীষ্টাব্দে। পরে ওই কবিতার কাহিনীকেই আপন করে নেয় চিতোরের মানুষ।

কী সেই কাহিনী?

রানা রতন সিংয়ের স্ত্রী ছিলেন সুন্দরী পদ্মাবতী। রানার দরবার থেকে বহিষ্কৃত এক রাজকর্মচারী সুলতানের কানে রানীর সৌন্দর্যের গুণকীর্তন করেন। শুনেই মুগ্ধ হন আলাউদ্দিন। একবার রানীকে দেখেও ফেলেন তিনি। আর তারপরই আক্রমণ করেন চিতোর।

আলাউদ্দিন পাকড়াও করেন রানা রতন সিংকে। এরপর পদ্মাবতীর কাছে শর্ত পাঠানো হয়, রানী যদি সুলতানের সঙ্গে আসেন, তাহলে ছেড়ে দেওযা হবে রানাকে। এরপর রানী ৭০০ সেনা পাঠিয়ে সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু শেষমেশ পরাজিত হতে হয় রানাকে। সুলতানের হাতে তার মৃত্যু হয়। তখন ‘জহরব্রত’ করেন রানি পদ্মাবতী। অর্থাৎ তিন সঙ্গীদের নিয়ে চিতায় ঝাঁপ দেন।

পদ্মাবতীর এই কাহিনী রাজপুতদের কাছে অত্যন্ত সম্ভ্রম ও গর্বের। এই বিশ্বাস তারা সংরক্ষণ করে চলেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কিন্তু অনেক ইতিহাসবিদ রানী পদ্মাবতীর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান! কেননা রাজপুত বা সুলতান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক দলিলে রানী পদ্মাবতীর উল্লেখ পাওয়া যায় না।

এছাড়া জয়সির কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হবার ফলে বদলে গেছে তার কাহিনী। শেষমেশ যেটুকু পাওয়া যায়, তা আদৌ ঐতিহাসিক কিনা তা নিয়ে আছে সন্দেহ। ইতিহাসবিদরা এর আগেও জানিয়েছেন, জয়সির কবিতা পুরোটাই প্রতীকী। ফলে আদৌ রানী পদ্মাবতী নামে কেউ ছিলেন কিনা, তা নিয়ে খানিকটা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।