শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করা উচিত নয়ঃসু চি

News Sundarban.com :
নভেম্বর ৩, ২০১৭
news-image

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়ে এবং সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঠাঁই নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করলেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি।

বৃহস্পতিবার রাখাইন পরিদর্শনে গিয়ে সু চি সেখানকার বাসিন্দাদের ‘ঝগড়া’ করতে মানা করেন। তিনি বলেন, পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করা উচিত নয়।

উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে রাখাইনের রাজধানী সিত্তুইয়ে যান সু চি। পরে সেখানে থেকে সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মংডু পরিদর্শন করেন।

এ সময় সু চি রাখাইনে মুসলিমদের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সেখানে তাদের উদ্দেশ্যে মাত্র তিনটি কথা বলেন।

প্রথম কথা: তাদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে, দ্বিতীয় কথা: ‘সরকার তাদের সহযোগিতা করবে এবং তৃতীয় কথা: তাদের পরস্পরের সঙ্গে ঝাগড়া করা যাবে না।

রাখাইন পরিদর্শনকালে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ প্রায় ২০ জন সু চির সঙ্গে ছিলেন। তাদের মধ্যে এক ব্যবসায়ী ছিলেন, যার ওপর এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছিল।

গত মাসে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে পুনর্বাসন শুরুর ঘোষণা দিয়ে ধনী ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এই নারী নেত্রী।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ঠাঁই নেওয়া রোহিঙ্গা যাদের রাখাইনে বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানায় দেশটির সরকার।

রোহিঙ্গাদের ফিরে নেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন। তবে এখনো বিষয়টির কূল-কিনারা হয়নি।

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার বিকেলে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবিক সহায়তা ও সংকট ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোস স্টাইলানডিস।

বৈঠক শেষে ক্রিস্টোস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে। সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে মিয়ানমারকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে ইতিবাচক অভিহিত করে এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আর বাংলাদশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা মেটাতে যতদিন প্রয়োজন ততদিনই সহায়তা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানান।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশি চৌকিতে অজ্ঞাত বিদ্রোহীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হন। এ হামলার জন্য মিয়ানমার সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের দায়ী করে তাদের ওপর নির্বিচারে দমন-পীড়ন শুরু করে। যা এক পর্যায়ে ‘গণহত্যায়’ রূপ নেয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে শিকার হয়ে এবং নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত দুই মাসে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সেখান থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।