রবিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বিলি করা জুতা দিয়ে আর চলছে না বর্ধমানের স্কুলছাত্রদের

News Sundarban.com :
অক্টোবর ৩০, ২০১৭
news-image

এক বছর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বিলি করা জুতা দিয়ে আর চলছে না বর্ধমানের স্কুলছাত্রদের। ফ্রি সেসব জুতা ছিঁড়ে গেছে কিংবা নষ্ট হয়ে গেছে; এজন্য অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীকেই খালি পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

ছোটদের পা বাড়ে, জুতা বাড়ে না। জুতা পুরনো হয়, ফাটে, ছেঁড়ে। দুটি মেঠো বর্ষা পার করলে তার আর থাকে কী?

পত্রিকা বলছে, গত বছর জানুয়ারিতে বোলপুর থেকে কলকাতায় ফেরার সময় হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল বর্ধমানের কাঁকসায়। রাস্তার পাশে ধুলা-পায়ে খেলছে স্কুলফেরত ক’টা ছেলেমেয়ে। পায়ে জুতা নেই কেন?

সমস্ত প্রাথমিক পড়ুয়াকে জুত দেওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কাঁকসা দিয়েই শুরু হয়েছিল জুতা বিলি। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত পড়ুয়া পেয়েছিল জুত।

দুটি বর্ষা পেরিয়ে সেসব জুতার বেশির ভাগই আর পরার যোগ্য নেই। সামনে ফুটো, সুকতলা খুলে গেছে। যে সব পড়ুয়ার বাবা-মা পেরেছেন, তারা ফের জুতা কিনে দিয়েছেন। যারা পারেননি, তাদের ছেলেমেয়েরা খালি পায়েই আবার স্কুল যাতায়াত শুরু করেছে বলে আনন্দবাজারে প্রতিবেদনে বলা হয়।

মুর্শিদাবাদে হরিহরপাড়া থানার ট্যাংরামারি প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া ইয়াসিন শেখ, মিনুকা খাতুনদের বাড়ি থেকে চপ্পল কিনে দিয়েছে। বেলডাঙার সুতিঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া মুনায়েম শেখ বা সাবিনা খাতুনদের অবশ্য তা জোটেনি। তারা আসছে খালি পায়েই। তাদের কথায়, গত বছরের জুতা আগেই ছিঁড়ে গেছে। নতুন জুতা কিনে দেওয়ার টাকা বাবার নেই।

সুতিঘাটার ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মহম্মদ হিলালউদ্দিন বলেন, গত বছর ওরা জুতা পেয়ে খুব খুশি হয়েছিল। এখন ফের যে-কে-সেই।

ট্যাংরামারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীমকুমার অধিকারী বলেন, জুতা দেওয়া হয়েছিল গত বছর জুনে। এত দিন তা টেকে? পরে আর জুতা আসেনি।-আনন্দবাজার