বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ইইউ পার্লামেন্ট ‘যৌন হয়রানির’ আখড়ার অভিযোগ 

News Sundarban.com :
অক্টোবর ২৫, ২০১৭
news-image

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্টের পুরুষ সদস্যদের কাছে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরুষ সাংসদদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন বেশ কয়েকজন নারী। তাদের একজন বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্ট যেন ‘যৌন হয়রানির আখড়া’ হয়ে উঠেছে।

চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার এ খবর প্রচার হলো। হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির কথা নারী অকপটে বলতে থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের নারী কর্মীরা যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করলেন।

দ্য টাইমস, দ্য সান ও দ্য সানডে টাইমস ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে নারীদের যৌন হয়রানি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্ট সদস্যরা কৌশলে অধস্তন নারী সহকর্মীদের শরীরে, বুকে, পিঠে ও পেছনে হাত দেন। সাংসদেরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং চাকরি যাওয়ার ভয়ে হয়রানির শিকার নারীরা মুখ বুজে সব সহ্য করেন।

হয়রানির শিকার এক ইইউ পার্লামেন্টের চাকরি করা নারী জানান, ৬০ বছর বয়সী একজন পার্লামেন্ট সদস্য আমাকে একা পেয়ে লিফটে উঠে পড়েন। কিন্তু এরপরই তিনি আমাকে ছোঁয়া শুরু করলেন। আমার কানে ফিস ফিস করে কথা বলেন।

ওই নারী বলেন, ‘তিনি আমার চুলে হাত বোলানো শুরু করেন। এরপর আমার ঘাড়, আমার পিঠে। আমি আতঙ্কে ঠান্ডা হয়ে গেলাম। ওই সময় আমার রীতিমতো শক্তি হরণ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। ঘটনাটি আমার সহকর্মীকে বলেছি। তিনি আমাকে বললেন, এটা নিয়ে অভিযোগ জানানো উচিত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি তা করিনি। চাকরি হারানোর ভয়, অস্বস্তি এবং কর্মজীবন শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল আমার।’

দুই সন্তানের পিতা ওই ব্যক্তি এখনো ইইউ পার্লামেন্টের সদস্য। তার লালসার শিকার শুধু ওই নারী হয়েছেন এমন নয়। এক ডজনের বেশি অধীনস্থ নারী কর্মী ওই ব্যক্তির কাছে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

হয়রানির কিছু কিছু ঘটনা ছিল ভয়ংকর। এক সদস্য তার অধীনস্থ এক নারীর কর্মীর সামনেই হস্ত মৈথুন শুরু করেন বলে অভিযোগ আছে।

জার্মানির একজন পার্লামেন্ট সদস্য তার ২২ বছর বয়সী এক নারী সহকারীকে একটি রাজনীতি বিষয়ক কর্মপরিবেশের জন্য দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানান। সেখানে ওই নারীকে স্পর্শ করেন তিনি। ২২ বছর বয়সী ওই নারী বলেন, আমরা দেয়ালে পিঠ দিয়ে বসেছিলাম। তিনি আমার পেছনের দিকে হাত দেওয়া শুরু করেন। ওই মুহূর্তে কি করতে হবে কোনো ধারণাই ছিল না। আমি তখন বলেছিলাম, ‘ও খোদা, এটা কি সত্যিই ঘটে গেল?’ ওই নারী বলেন, ‘আমি আমার বসের সঙ্গে ঝামেলায় যেতে চাইনি। আমি বয়সে খুব ছোট ছিলাম। এমন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা জানতাম না এবং সে সম্পর্কে খুব সচেতনও ছিলাম না।’ তিনি বলেন, ‘তিনি (সদস্য) জানতেন যে আমি লজ্জা পেয়েছিলাম এবং শান্ত ছিলাম। তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি বেপরোয়া ছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানতেন যে তিনি এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন এবং এ জন্যই তিনি আমার সামনে খুব আরামেই বসে ছিলেন।’