বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

 যোগাযোগ ব্যবস্থা অপ্রতুলতার জন্য থমকে আছে সুন্দরবনের উন্নয়ন

News Sundarban.com :
অক্টোবর ১৬, ২০১৭
news-image

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় স্থান পাওয়া সুন্দরবনের উন্নয়ন থমকে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা অপ্রতুলতার জন্য। ডুয়ার্সে চা-বাগান এবং পাহাড় থাকলেও পর্যটক টানার কাজে আশাপ্রদ সাড়া মেলেনি। আটকে আছে অনুন্নত নানা গ্রামের মধ্যে সংযোগকারী রাস্তা তৈরির কাজও। আগামী বছরের গোড়ার দিকে যে কোনও সময়ে পঞ্চায়েত ভোটের দামামা বাজতে পারে। এই অব্স্থায় উন্নয়ন পর্ষদগুলোকে দ্রুত উন্নয়নের কাজ করার নির্দেশ দিল নবান্ন।

‘মানুষের চোখে পড়ে’, এমন কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য পশ্চিমাঞ্চল, সুন্দরবন ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের কাছে নির্দেশ পাঠায় নবান্ন। তিনটি পর্ষদই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে নবান্নে। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছে।

রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ বদ্বীপ এলাকা, পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলমহল আর উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা— সর্বত্র যোগাযোগ ব্যবস্থাই মূল সমস্যা। এতে যেমন স্থানীয় মানুষ নিত্য অসুবিধায় পড়ছেন, পর্যটনও মার খাচ্ছে। তাই মূলত রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণে জোর দেওয়া হয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি, পানীয় জল ও স্কুল বাড়ি তৈরির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এক কর্তার কথায়, ‘‘পরিকাঠামো উন্নয়নে এই কাজগুলি সহজেই লোকের নজরে পড়ে।’’ উন্নয়নের নকশা সুন্দরবনেও প্রায় একই রকম। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় স্থান পাওয়া সুন্দরবনের উন্নয়ন থমকে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা অপ্রতুলতার জন্য। এখানে ম্যানগ্রোভ ও বদ্বীপ এলাকা মিলিয়ে ১০২টি দ্বীপ রয়েছে। তার মধ্যে ৫৪টি দ্বীপে ৫৫ লক্ষ মানুষের বাস। বাকিটা গভীর জঙ্গল। ৬৮টি প্রজাতির গাছ রয়েছে এই জঙ্গলে। ও পারে বাংলাদেশ। দফতরের মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরার কথায়, ‘‘কাশ্মীরের মতো সুন্দরবনও রত্নগর্ভা। একটার সঙ্গে আর একটা দ্বীপের সংযোগ ঘটাতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি সেতু তৈরি হবে। এর মধ্যে সাতটির কাজ শেষের পথে।’’ এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যা নদীর উপর পাথরপ্রতিমা-মন্দিরঘাট এবং গদখালি-গোসাবা সেতু। দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, দ্বীপগুলির মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা সড়ক পথে সরাসরি সুন্দরবনে আসতে পারবেন।  হাতানিয়া–দোয়ানিয়া সেতুর কাজ শেষ হলে বার্জের জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি কলকাতা থেকে বকখালি যাওয়া যাবে।