রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ঘুরতে এসে লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন ভারতীয় পর্যটক

News Sundarban.com :
অক্টোবর ১৬, ২০১৭
news-image

এম এ আহাদ শাহীন :
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সনৎকুমার মুখপাধ্যায় (৭০) বছর দশেক আগে চাকরি জীবন থেকে ইস্তফা নেন। অবসর থাকায় স্ত্রী ভারতী মুখার্জি (৫৫) ও কন্যা সৃজিতা মুখার্জিকে নিয়ে বাংলাদেশ ঘুরতে এসেছিলেন। রাজশাহী, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান ঘুরে সর্বশেষ এসেছিলেন পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারে। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালী গড়ে দেখতে গিয়েছিলেন মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির। সেখান থেকেই অসুস্থ হয়ে কক্সবাজারে আসেন এবং রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জীবিত এসে লাশ হয়েই দেশে ফিরছেন সনৎকুমার। তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনার শৈলন্দ্র লাল মুখার্জির ছেলে ও পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিসের পুরোনো কর্মচারি।

স্ত্রী ভারতী ও কন্যা সৃজিতার বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেছেন, সকালে তারা মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির দেখতে যান। আদিনাথ থেকে মহেশখালী পৌরসভার বড় ক্যাংয়ে যান তারা। চারপাশ ঘুরে দেখে পছন্দমতো ছবিও তুলেন। শেষে বের হয়ে পুরো ক্যাংয়ের ছবি নিচ্ছিলেন সনৎকুমার। এসময় একটি ইজিবাইকের (টমটম) সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এতে আহত হয়ে অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত কক্সবাজার এনে বিকেলে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান।

সনৎকুমারের মেয়ে সৃজিতা মুখার্জি বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এলাকায় বলেন, গত ৮ অক্টোবর পরিবারের সবাই বাংলাদেশ আসেন। রাজশাহী, ঢাকা, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান হয়ে ১৪ অক্টোবর তারা কক্সবাজার পৌঁছান। উঠেন সমুদ্রপাড়ের হোটেল সী ওয়ার্ল্ডে। সমুদ্রস্নান ও শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন শেষে তারা মহেশখালী গিয়েছিলেন। সেখানে অনাকাঙ্খিত একটি দুর্ঘটনার সূত্র ধরে তার বাবা পরপারের বাসিন্দা হলেন। জীবিত আসা বাবাকে লাশ হিসেবেই সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সনৎকুমার দম্পতির একমাত্র সন্তান সৃজিতা।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, মরদেহটি রাতেই কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেলে ভারতীয় দূতাবাসের চট্টগ্রাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে পর্যটক সনৎকুমারের মরদেহ। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।