বুধবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

স্পেনের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখলেন কাতালান নেতা কার্লোস পুজেমন

News Sundarban.com :
অক্টোবর ১১, ২০১৭
news-image

জনগণের রায় অনুযায়ী স্বাধীনতার পক্ষে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও স্পেনের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখলেন কাতালান নেতা কার্লোস পুজেমন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে তিনি এই অবস্থানের কথা জানান।

স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ভাষণ দেন পুজেমন। বিবিসির খবরে বলা হয়, পুজেমন বলেছেন, ‘ব্যালটে কাতালোনিয়ার মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে, আমি এই পথেই এগোতে চাই। কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতি জনগণ যে ইচ্ছার কথা জানিয়েছে, আমি তা অনুসরণ করতে চাই।’

স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পুজেমনের ওই ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুজেমন ভাষণের সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেন। বিতর্কিত গণভোটের পর পুজেমন তাঁর ভাষণে একপাক্ষিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

স্পেনকে দ্বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে আপাতত সরে এলেন পুজেমন। স্পেন সরকার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার বিপক্ষে।

স্পেনের বিত্তশালী অঞ্চল কাতালোনিয়া। জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। অঞ্চলটির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। পাঁচ বছর ধরেই স্বাধীনতার কথা উঠছে। তবে ২০১৫ সালে কাতালোনিয়ার প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান সেখানকার স্বাধীনতাকামীরা। নির্বাচনের ওই ফলের মধ্য দিয়ে স্পেন থেকে পৃথক হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যায় কাতালোনিয়া। কাতালোনিয়া কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা নিয়ে ১ অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করে। স্পেন সরকার ওই গণভোটকে বেআইনি বলে আখ্যা দেয়। ওই গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কয়েক শ আহত হয়।

কাতালোনিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, স্পেন থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ওই গণভোটে ৯০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেয়েছে তারা। ওই গণভোটের দুই দিন পর বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত স্বাধীনতার পক্ষে মিছিলে লাখো মানুষ অংশ নেয়।