রবিবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনের বাঁধ মেরামতির জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও বিফলে যায় বড় অংশ

News Sundarban.com :
অক্টোবর ৫, ২০১৭
news-image

শশাঙ্ক শেখর মন্ডল

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদী মোহনায় গড়ে ওঠা নানারকম জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ ভারতীয় সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য আজ ক্রমশঃ দিনে দিনে বিঘ্নিত। ঝড়, ঝঞ্ঝা প্রাকৃতিক দুর‌্যোগ সাইক্লোন বন্যা জলোচ্ছ্বাস প্রভতিকে বারেবারে থামিয়ে চলেছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে দাঁড়ানো সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। তবে অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর‌্যোগের চেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যা হল সুন্দরবনের নদীবাঁধের ভাঙন। এমনিতে এই অঞ্চলের বাঁধগুলির বয়স প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি। এই অঞ্চলের মোট নদীবাঁধের দৈর্ঘ্য ৪২৫০ কিমি। এগুলির ঠিকমতো পরিকল্পনা মাফিক রক্ষণাবেক্ষণে যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলের নদীর চর ও খাড়া নদীবাঁধের ধস নামা খুব সাধারণ ঘটনা। এই ধরনের ধস প্রায় ৫০-৬০ ফিট বিস্তৃত পলিমাটিকে অন্যত্র সরিয়ে দেয় অথবা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এই ধরনের ভাঙনের ক্ষেত্রে যে বিস্তৃতি ঘটে তা প্রায় ৫-৬ শ ফিট এলাকাজুড়ে। তাই ঠিকমতো মাটির গুণাগুণ, স্রোতের গতি-প্রকৃতি ও ভতত্ত্ব বুঝে নিয়ে উন্নত প্রযুক্তি বিদ্যা সম্পন্ন এই স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করলেই ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

এছাড়াও নদী উপকুলবর্তী অঞ্চলের অতিরিক্ত জল বের করার জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করে উন্নতমানের স্লুইস গেট নির্মাণ করা যেতে পারে। প্রতিবছর ভরা কোটালের সময় সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হলেও এই স্থায়ী শক্তপোক্ত নদীবাঁধ তৈরি ও তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তেমন কোনও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। বাঁধ মেরামতির জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয় বটে, কিন্তু তার বড় অংশ বিফলে যায়। সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ, রাজ্য সেচ দফতর, রিভার রিসার্চ ইন্সটিটিউট, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদ, সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প (Sundarban Tiger Project ) এই দফতরগুলি একত্রিত হয়ে সহমতের ভিত্তিতে পরিকল্পনামাফিক এই স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারে। তাহলে হয়ত কিছুটা প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে। সুন্দরবনের প্রতিটি নদীতে দিনে ২ বার জোয়ার ভাটা হয়। সাগরের জল সরাসরি নদীতে প্রবেশ করে। তাই কোন জায়গায় কোন ধরনের বাঁধ তৈরি করলে দীর্ঘস্থায়ী হয় তা নির্ভর করে ওই জায়গার মাটির কণার উপাদানের দৃঢ় সংবর্ধ ক্ষমতার উপর
Soil Mechanics এবং জলের গতি বিদ্যার (Hydrodynamics) উপর। সেক্ষেত্রে ভমির ক্ষয় পলির অবক্ষেপন, মাটির কণার পরিবহন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে বুঝে শক্তপোক্ত এই স্থায়ী নদীবাঁধ তৈরি করা জরুরি। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি ভতত্ত্ববিদদের জরুরি পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সুন্দরবনের সমস্ত অঞ্চলের নদীবাঁধ তৈরি করার জন্য মূলতঃ নদীর চর থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়। যেসব জায়গায় ভাঙন প্রবণতার দাপট বেশি থাকে সেসব জায়গায় বাঁধের ঢালু অংশে নদীর দিকে ইট বিছিয়ে দেওয়া হয়। যাতে জোয়ারের সময় নদীর জলের স্তর বাড়লে ঢেউ আছড়ে গিয়ে ইট বিছানো ওই অংশের উপর পড়ে। ফলে নদীবাঁধের ক্ষতির পরিমাণ খানিকটা কম হয়। ভমির ক্ষয় যেখানে অত্যন্ত বেশি সেসব জায়গাগুলি চিহ্নিত করে পুরনো বাঁধের গায়ে মাটি দিয়ে মেরামত না করে প্রয়োজনে স্থান পরিবর্তন করে বাঁধ তৈরি করে ভাঙন বন্ধ করা যায়।

ছবি-ঝোটন