শুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রাজ্য কংগ্রেস নেতত্বে পরিবর্তন আসন্ন

News Sundarban.com :
অক্টোবর ৫, ২০১৭
news-image

অপূর্ব দাস

পুজোর মরশুম শেষ হওয়ার পরেই অর্থাত্ অক্টোবরের শেষে অথবা নভেম্বরের গোড়ায় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতত্ব প্রদেশ কংগ্রেসে পরিবর্তন আনতে চলেছেন। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী এবং সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী বুঝে গেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরিকে সভাপতি রেখে পশ্চিমবঙ্গে তণমূলের হাত ধরা যাবে না। রাজ্যে এখন যা অবস্থা তাতে কংগ্রেস একা ২০১৮-র পঞ্চায়েত বা ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে লড়লে ভরাডুবি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। বামেরা ধীরে ধীরে এরাজ্যে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসের শক্তি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই অবস্থায় জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপিও এ রাজ্যে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তাই নিজের স্বার্থেই কংগ্রেস এ রাজ্যে তণমূলের হাত ধরতে চাইছে। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ভালো করেই জানেন, তণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধলে ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে নিজেদের চারটি আসন ধরে রাখা যাবে। দুএকটির আসন বাড়তেও পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেটা কম কথা নয়। তাছাড়া ২০১৯-র নির্বাচনের পর বিজেপি-কে আটকাতে তণমূল সাংসদদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে কংগ্রেস ছেড়ে তণমূলে যাওয়ার হিড়িক শুরু হয়েছে তাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতত্ব অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি এবং অধীর চৌধুরির গড় বলে পরিচিত মুর্শিদাবাদে জেলাপরিষদ এবং সবকটি পুরসভা তণমূলের দখলে চলে গেছে। অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিও এখন তণমূলের হাতে। এমনকি জেলার বেশ কয়েকজন বিধায়কও তণমূলে যাওয়ার পথে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। কংগ্রেসের আরেক শক্ত ঘাঁটি মালদাতে দলে ভাঙন ধরেছে। হাইকম্যান্ড বুঝতে পেরেছেন অধীরবাবুকে প্রদেশ সভাপতি রাখলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। তাই প্রদেশ সভাপতি পদে পরিবর্তন আনতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতত্ব। প্রাথমিকভাবে নয়া সভাপতি হিসাবে তিনটি নাম ভাবা হয়েছিল। এঁরা হলেন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান, প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায় এবং রাজ্যসভার সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য। ভগ্নস্বাস্থ্যের জন্য মান্নান সাহেবের নাম বাদ যায়। দেবপ্রসাদবাবুর পরিচিতি মূলতঃ উত্তরবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গে কর্মীদের মধ্যে তিনি সেভাবে পরিচিত নন। তাই তাঁকেও বাদ দেওয়া হয়। শেষ পর‌্যন্ত প্রদীপবাবুর নামে সর্বসম্মতি হয়। প্রদীপবাবুর সঙ্গে মমতার সর্ম্পক ভাল। তাঁর সমর্থনেই সম্প্রতি দ্বিতীয়বার রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। তাছাড়া তিনি দলের সব গোষ্ঠীর কাছে সমান গ্রহনযোগ্য।