রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

টানা কয়েক ঘণ্টা জেরায় অসুস্থ হানিপ্রীত

News Sundarban.com :
অক্টোবর ৫, ২০১৭
news-image

আদালতে তোলার আগে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত জেরা করা হয়েছে ধর্ষণের মামলায় সাজা পাওয়া ভারতের হরিয়ানার স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিমের কথিত কন্যা হানিপ্রীত ইনসানকে। টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা জেরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। গ্রেপ্তারের পর কারাগারে প্রথম রাতটা এভাবেই কেটেছে হানিপ্রীতের।

বুধবার আদালত হানিপ্রীতকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ধর্ষণের মামলায় সাজা পাওয়া ভারতের হরিয়ানার স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিম ইনসানের ‘দত্তক কন্যা’ হানিপ্রীত ৩৮ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার হরিয়ানা-পাঞ্জাব সীমান্ত এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর তাঁকে পঞ্চকুলা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেখানেই মঙ্গলবার রাত তিনটা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ‘বাবার’ পালিত কন্যাকে জেরা করে পুলিশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুলিশের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হানিপ্রীত। জেরার মাঝপথে বুকে ব্যথা অনুভব করায় হানিপ্রীতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর ইসিজি করানো হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে রক্তচাপও।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, হানিপ্রীতের চিকিৎসা প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু মেলেনি। এর আগে অবশ্য মানসিক অবসাদের কথাও পুলিশকে জানান হানিপ্রীত।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘বাবা’ রাম রহিমকে যেদিন পঞ্চকুলার আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাম রহিমের পালিত কন্যা হানিপ্রীত। কিন্তু রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার পরেই পঞ্চকুলায় চূড়ান্ত তাণ্ডব চালায় ডেরার ভক্তরা। অভিযোগ, সেই তাণ্ডব হানিপ্রীতের নির্দেশেই হয়েছিল। এ ছাড়া জোড়া ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত রাম রহিমের সাজা ঘোষণার দিন পঞ্চকুলা, সিরসাসহ হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ছড়ানো এবং দেশদ্রোহের অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

হানিপ্রীত ছয় দিনের রিমান্ডে
বুধবার হানিপ্রীতকে পঞ্চকুলার একটি আদালতে হাজির করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে বিচারক ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাম রহিমের সঙ্গে পালিত কন্যা হানিপ্রীতের সম্পর্ক নিয়ে নানান কথা উঠছে। এসব কথা নিয়ে হানিপ্রীত খুবই হতাশ। মেয়ের সঙ্গে বাবার স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না তিনি। হানিপ্রীত বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, বাবা-মেয়ের এমন পবিত্র সম্পর্ককে কোথায় নামানো হয়েছে? আমি জানতে চাই, একজন বাবা তার মেয়ের মাথায় হাত রাখে না? একজন মেয়ে তার বাবার কাছে যায় না?’

গত আগস্টের শেষ দিকে ডেরার প্রধান রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার দিন থেকেই পলাতক হানিপ্রীত। শোনা যায়, সীমান্ত পেরিয়ে তিনি নেপালে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু হানিপ্রীতের কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ। গত সপ্তাহে দিল্লি হাইকোর্টে তাঁর আইনজীবী ট্রানজিট অ্যান্টিসিপেটরি জামিনের আবেদন করেন। আদালত সে আবেদন খারিজ করে দেন। এ ব্যাপারে সাক্ষাৎকারে হানিপ্রীত বলেন, ‘আমি কোথাও যাইনি। নেপাল তো নয়ই। ভারতেই ছিলাম।’

রাম রহিমের ডেরার নারী যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য গল্প সম্পর্কেও কথা বলেন হানিপ্রীত। তিনি বলেন, ‘এক চিঠির ভিত্তিতে কীভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়? আমার বাবা নির্দোষ এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। ডেরা সচ সউদায় কোনো নারীকে নির্যাতন করা হয়নি। তাঁরা (আদালত) অন্য নারীদের মতামত নেননি।’

হানিপ্রীত বলেন, ‘আমার বাবা নির্দোষ এবং সত্য শিগগিরই বেরিয়ে আসবে। আমার বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুদ্ধ। দয়া করে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ বিশ্বাস করবেন না।’

৩৬ বছরের হানিপ্রীতের আসল নাম প্রিয়াঙ্কা তানেজা। বিশ্বাস গুপ্ত নামে একজনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। স্বামী ছিলেন রাম রহিমের ভক্ত ও ডেরা সচ সউদার একনিষ্ঠ কর্মী। রাম রহিমের নজরে পড়তে প্রিয়াঙ্কার দেরি হয়নি। এরপর ক্রমে ক্রমে তিনি রাম রহিমের ঘনিষ্ঠতম হয়ে ওঠেন। নতুন নাম হয় হানিপ্রীত। রাম রহিমের তৈরি মোট ছয়টি সিনেমার তিনিই ছিলেন নায়িকা। বিশ্বাস গুপ্তর অভিযোগ, ডেরায় তিনি নিজে রাম রহিমের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেছেন। রাম রহিমের চাপেই জোর করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানো হয়। এরপর থেকেই হানিপ্রীত স্বঘোষিত ধর্মগুরুর চব্বিশ ঘণ্টার সঙ্গী।