রবিবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

এক ঋষির আশ্রমে ঘোড়াটির খোঁজ ও সগর পুত্ররা ভস্মীভত

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭
news-image

শশাঙ্ক শেখর মন্ডল
২ পর্ব
পরিশেষে দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্রপকূলে উপস্থিত হয়ে একটি ঋষির কুটিরে ঘোড়াটিকে দেখতে পেয়ে রাজপুত্ররা এগিয়ে চললেন। সেসময়ে কুটির স্বামী ঋষি ছিলেন গভীর ধ্যানমগ্ন। রাজপুত্ররা বীরবিক্রমে হইহুল্লোড় করতে করতে ঋষির কাছে ঘোড়াটির সম্পর্কে নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলেন। তাতে ঋষির কাছ থেকে কোনও উত্তর পেল না। রাজপুত্ররা রেগে আগুন। তাঁদের ধারণা হল, এই ঋষি যজ্ঞের ঘোড়াটিকে চুরি করেছে। নানা রকম অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে কোনওরকম উত্তর না পেয়েও, ঋষির শরীরে রাজপুত্ররা তাদের হাতের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে শুরু করল। ধ্যান ভেঙে গেল ঋষির। ক্রোধের আগুন ঝড়ে পড়তে লাগল। মুহূর্তে ঋষির ক্রোধের আগুনে সগর রাজবংশের ৬০ হাজার উদ্ধত্তমহা বিক্রম পরাক্রমী পুত্ররা ভস্মীভত হয়ে গেল।


এরপর ঋষি কপিলমুনী পুনরায় ধ্যানমগ্ন হলেন। এই ঘটনার পর দীর্ঘসময়ে অতীত। মন্ত্রপুত যজ্ঞের ঘোড়া সহ পুত্রদের নিজ রাজপ্রাসাদে ফিরে না আসায় সগর রাজা চিন্তিত। সগর রাজা বাধ্য হয়ে পুত্র অংশুমানকে ঘোড়া ও ভাইপোদের সন্ধানে নিয়োগ করলেন। অংশুমান পিতব্য বলে গমন করা পথের সন্ধান ও অনুসরণ করে ঘুরতে ঘুরতে শেষপর‌্যন্ত জল জঙ্গলে ভরা নিম্নভমির সমুদ্রতটে কপিল মুনীর আশ্রমে এসে হাজির হলেন। সে সময়ে ধ্যান মগ্ন একটি ঋষিও ঘোড়াটিকে চড়ে বেড়াতে দেখলেন। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, সগরপুত্র অংশুমান ছিলেন স্বভাবে সরল প্রকৃতি ও ভক্তিমান। গভীর ভক্তিসহকারে আশ্রমে ধ্যানমগ্ন ঋষিকে প্রণাম করে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তখন ঋষির ধ্যানভঙ্গ হয়। অতি অল্পসময়েই পরে ঋষি ধ্যান ভেঙে দেখলেন তার সামনে হাত জোড় করে বিনর্মচিত্তে একজন রাজপুত্র বসে আছেন। পুনরায় রাজপুত বিনম্র প্রণামে সন্তুষ্ট হয়ে ঋষি তাঁর পরিচয় জানতে চাইলেন। উত্তরে রাজপুত্র জানালেন, তিনি সগর রাজারপুত্র অংশুমান। তিনি পিতব্যগণের সন্ধান ও অশ্বমেধ যজ্ঞের কথা নিবেদন করে তাদের সংবাদ জানতে চাইলে, ঋষি কপিল জানালেন, তাঁর ক্রোধের আগুনে তাঁরা ভস্মীভত হয়েছে। তবে তিনি আরও জানালেন, অংশুমান যেন ঘোড়াটিকে নিয়ে নিজের রাজধানীতে ফিরে যায়। এবং সুস্থভাবে অশ্বমেধ যজ্ঞ শেষ করে। তিনি ও মনেপ্রাণে চান অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পূর্ণ হোক। এই কথা বলে ঋষি কপিল পুনরায় ধ্যানমগ্ন হলেন। অংশুমান ভক্তি প্রণাম জানিয়ে পিতব্যগণের উদ্দেশে তর্পনের জন্য জলের সন্ধান করতে লাগলেন। সে সময় পক্ষীরাজ সুপর্ণর সঙ্গে তার দেখা হল। পক্ষীরাজ সুপর্ণ অংশুমানের মুখে সমস্ত কথা শুনে জানালেন, লৌকিক সলিল অর্থাত্ জলে তাঁর পিতব্যগণের মুক্তি হবে না। তার জন্য স্বর্গমন্দাকিনী গঙ্গা নদীর জলধারার স্পর্শে তাঁর পিতব্যগণের মুক্তি হওয়া সম্ভব। ব্যর্থ হৃদয়ে অংশুমান ঘোড়াটিকে নিয়ে রাজধানীতে ফিরে এলেন ও সব বিত্যান্ত পিতামহ সগররাজার কাছে নিবেদন করলেন। (চলবে)