শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বাড়ি ভাড়া নয় রোহিঙ্গাদের, নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭
news-image

শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া রোধে তাদের বাড়ি ভাড়া দিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ। তাছাড়া পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা যাতে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার জন্য বহন না করে সে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। এরইমধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করার পর কক্সবাজারের উখিয়ায় নির্দিষ্ট ক্যাম্পে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মানিকগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জেও কয়েকজন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সদরদপ্তর নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে তাদের বসবাস ও যাতায়াত বন্ধের নির্দেশনা দিল।

শনিবার পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের যারা তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন সরকার তাদের নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে। খাওয়া এবং চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা নিজের দেশে না ফেরা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যাম্পে অবস্থান করবেন। রোহিঙ্গাদের অবস্থান এবং গতিবিধি শুধু কক্সবাজারের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকবে। তারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তিদের অবস্থান বা আশ্রয় নিতে পারবেন না। ওই নির্দেশনায় কেউ যাতে নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া না দেয় সে বিষয়েও সর্তক করা হয়।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস জানান, রোহিঙ্গারা নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেন না। তারা সড়ক, রেল বা নৌপথে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারবেন না। নির্দিষ্ট ক্যাম্প ছাড়া অন্যান্য এলাকায় তাদের যাতায়াত বন্ধে পরিবহন চালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রোহিঙ্গাদের পরিবহন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাউকে যদি নির্দিষ্ট ক্যাম্প ছাড়া অন্যত্র আশ্রয় বা বাড়ি নেওয়ার তথ্য থাকে তা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। পাশাপাশি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া বা অবস্থানের খবর জানলেও সবাইকে তা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।

গত কয়েক দশক ধরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আছে। এদের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্যও সরকারের কাছে রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে মায়ানমার সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হয়েছে। এ শরণার্থীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের এ নাগরিকদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে আশ্রয় শিবির করেছে সরকার। সেখানে তাদের নিবন্ধনের পাশাপাশি খাবার ও চিকিৎসা সেবাও দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।