বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ছাত্রীর কাঁধেই এবার মালদার তিন- তিনটি বড় পুজোর দায়িত্ব

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭
news-image

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রী। স্নাতকস্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। বর্তমানে এডুকেশন স্নাতকোত্তর শাখার প্রথম বর্ষের ছাত্রী ব্রততী পণ্ডিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এই ছাত্রীর কাঁধেই এবার মালদার তিন- তিনটি বড় পুজোর দায়িত্ব। তাঁর ওপর আস্থা রেখেই এবার পুজোয় চমক দিতে তৈরি পুজোর উদ্যোক্তারা।
দিনে দশ থেকে ১২ ঘণ্টা দেদার পরিশ্রম করে শিল্প সৃষ্টিতে লেগে রয়েছে ব্রততী। বাবা সুকুমার পণ্ডিত বিখ্যাত মৃত্শিল্পী। শিল্পী ঘরনাতেই জন্ম ব্রততীর। পরিবারের বড়দের কাজকর্ম দেখতে দেখতেই শিল্পে হাতেখড়ি। পড়াশুনোর পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক অাঁকার প্রতি। কখনও কোথাও প্রথাগত শিক্ষা নেননি। তবু তাঁর হাত ধরে সৃষ্টি হয়ে চলেছে একের পর এক শিল্পকর্ম। এবারের পুজোয় মালদায় অন্যতম সেরা বাজি এই ব্রততী। কালীতলা ক্লাবের রাজপাট, অভিযাত্রী সংঘের থিম আমার ফসল আমার গোলা ঝংকার ক্লাবের থিম কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ির দায়িত্ব ব্রততীর কাঁধে।
বাবার তৈরি প্রতিমা আর ব্রততীর তৈরি থিমে এবার মাতবে মালদার দুর্গাপুজো। গতবছরই দুটি পুজোর থিম পরিকল্পনা ছিল কলেজ ছাত্রীর। এবার দায়িত্ব আরও বড়। পড়াশুনোর ফাঁকে প্রায় এখন থিম পুজোর প্রস্তুতিতে মজে রয়েছেন শিল্পী।
ব্রততীর কথায়, এর আগে বাড়িতেই বাবাকে সাহায্য করতাম। গত চারবছর ধরে নিজে এসব নিয়ে ভাবছি। বাড়ির লোকজন এবং বন্ধুরা আমাকে খুব উত্সাহিত করে।
বরাবরই শিল্পকর্মে নামডাক রয়েছে পণ্ডিত পরিবারের। বাবা, কাকা, ঠাকুরদারা সকলেই বিখ্যাত মৃত্শিল্পী। তবে ব্রততীর বেড়ে ওঠা মূলত রংতুলি হাতেই। এর পাশাপাশি বাবার সঙ্গে প্রতিমা তৈরিতেও মেয়ের যুগলবন্দি অসাধারণ। পরিবারের ছোট মেয়ে এভাবে শিল্পী হয়ে উঠবে প্রথমে এমনটা ভাবেননি সুকুমারবাবু। পরে মেয়ের কাজ দেখে একাধিক থিম পুজোর অর্ডার নিয়েছেন। মেয়ের মধ্যে বড় শিল্পী হয়ে ওঠার সব উপাদানই দেখতে পেয়ে উত্সাহ দিয়েছেন শিল্পী বাবাও।
ব্রততীর জন্য গর্বিত তাঁর বাবা সুকুমার পণ্ডিত। তাঁর কথায়, আমাদের বাড়ির মেয়েরা বাড়ির ভিতরেই এতদিন কাজ করে এসেছে। এই প্রথম আমার মেয়েই এভাবে বাইরে বেরিয়ে কাজ করছে। ও আমাকে খুব সাহায্য করে। ওর জন্য আমার সত্যি খুব গর্ব হয়।