শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১০০ ধর্ষকের সাক্ষাৎকার

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭
news-image

ব্রিটেনের আংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের ছাত্রী মধুমিতা পাণ্ডে। তিন বছরের গবেষণায় ১০০ ধর্ষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণী। আর ভারতের বিভিন্ন কারাগার ঘুরে সাজাপ্রাপ্ত ধর্ষকদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়েছে তাকে।

তিহার জেলে সাজাপ্রাপ্ত ধর্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মধুমিতা। প্রথমে যখন এসেছিলেন, এদের কোনো রাক্ষস কিংবা পিশাচ জাতীয় প্রাণী মনে করতেন মধুমিতা। কিন্তু ধীরে-ধীরে তার চিন্তাভাবনা পাল্টায়। মধুমিতা তার গবেষণায় দেখেন, ধর্ষণের মতো অপরাধ যারা করেছেন তারা প্রত্যেকেই অতি সাধারণ মানুষ। এই সমাজেই তাদের বসবাস। বেশির ভাগ ধর্ষকের পড়াশোনা তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। আর নিজের কর্মকাণ্ডে খুব একটা আফসোস নেই তাদের। বরং এটা খুবই স্বাভাবিক।

মধুমিতাকে চমকে দেন ৪৯ বছরের এক ধর্ষক। পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করার জন্য জেল খাটেন তিনি। মেয়েটির জন্য বড় ব্যথিত ওই পুরুষ। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন জেলের সাজা শেষে বেরিয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করে বাকি জীবনে নিজের ভুল শুধরাবেন।

এই তিন বছরে মধুমিতার উপলব্ধি হয়েছে, ধর্ষণের অপরাধী কেবল ধর্ষক নয়। প্রকৃত অপরাধী এ সমাজ। যে সমাজ পুরুষকে শেখায় তুমি শ্রেষ্ঠ, বলিষ্ঠ। আর নারীকে শেখায় ধৈর্য, শালীনতা, কমনীয়তা। যে সমাজে এখনও স্বামীর নাম ধরে ডাকার চল নেই। স্কুলে তেমনভাবে যৌন শিক্ষাদানের ব্যবস্থা নেই। প্রকাশ্যে যৌনতা নিয়ে আলোচনা করা পাপ হিসেবে মনে করা হয়। সেই সমাজ কেমন করে নারীকে সুরক্ষা দেবে?

নিজের এই গবেষণাপত্র খুব শিগগিরিই জমা দিতে চলেছেন মধুমিতা। এ জন্য এরই মধ্যে অনেকে তাকে ‘নারীবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন। অবশ্য তা থোড়াই কেয়ার করছেন মধুমিতা। নিজের অভিজ্ঞতার কথা খুব শিগগিরই গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যদিয়ে সবাইকে জানাবেন, সেজন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি