বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চরমপন্থিদের হিসংতা’ নিয়ে মিয়ানমারের মতো ভারতও উদ্বিগ্ন: মোদি

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭
news-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ‘চরমপন্থিদের হিসংতা’ নিয়ে মিয়ানমারের মতো ভারতও উদ্বিগ্ন।

বুধবার মিয়ানমার সফরে গিয়ে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

মোদি বলেন, রাখাইন রাজ্যে চরমপন্থিদের সহিংসতা নিয়ে, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং এর কারণে যেভাবে নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিয়ে আপনাদের মতো আমরাও উদ্বিগ্ন।’

এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরুর পর উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতিতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে এমন পরিস্থিতি চলার মাঝেই বুধবার মিয়ানমার সফরে যান মোদি। এদিন দু’পক্ষে মধ্যে ১১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হয়।

দেশটির রাজধানী নেপিডোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সব পক্ষ একসঙ্গে একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে, যার মাধ্যমে মিয়ানমারের ভৌগলিক অখণ্ডতা ও একতা সমুন্নত থাকবে এবং একই সঙ্গে সবার জন্য শান্তি, ন্যায়বিচার, মর্যাদা নিশ্চিত হবে ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় থাকবে।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশটির ওপর চীনের প্রভাব কমাতেই মোদির এই অবস্থান। ভুটান, মিয়ানমার ও নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সাউথ ব্লক। তাই বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা দিয়ে সুচি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে ভারতের সম্পর্ক আরও মজবুত করলেন মোদি— এমনটাই অভিমত বিশেষজ্ঞ মহলের।

মিয়ানমারের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট পুলিশের বেশ কিছু চৌকিতে হামলার পর সেখানে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব হামলার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দায়ী করে সেখানে চালানো সেনা অভিযানে অন্তত ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে বলে গত সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

রাখাইন রাজ্যে নতুন করে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকছে। সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে আগস্টের শেষ দিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর ১০ দিনে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। তারা টেকনাফ ও উখিয়ার উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন দাতা সংস্থা, সংগঠন ও স্থানীয় লোকজন অসহায় ওই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে।

রাখাইনে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিদের’ দায়ী করলেও সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটি থেকে রোহিঙ্গাদের বিতারিত করার চেষ্টা করছে।