শুক্রবার, ২০শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ওবামার আমলে অভিবাসীদের সুরক্ষা বাতিল করল ট্রাম্প

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭
news-image

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে নেওয়া তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষা কর্মসূচি ট্রাম্প প্রশাসন বাতিল করায় এর তীব্র সমালোচনা করেছেন ওবামা। গত মঙ্গলবার ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ) নামের প্রকল্পটি আনুষ্ঠানকিভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে ড্রিমার প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

‘ডাকা’ বা ‘ড্রিমার’ নামে পরিচিত এ প্রকল্প বাতিল করার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস গত মঙ্গলবার এ প্রকল্পের অবসান ঘোষণা করেন। ফলে ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল বা ডাকা নামের প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটে। আর এর ফলে দুই বছর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাজ বা পড়ালেখার সুযোগ হারাবে অন্তত ৮ লাখ অভিবাসী তরুণ। অবশ্য এ প্রকল্পের আওতায় থাকা তরুণদের আগামী ছয় মাস কোনো সমস্যা হবে না। তবে নতুন কোনো আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না।

আইনের ফাঁক গলে ‘ড্রিমার’ নামে এই প্রকল্পের আওতায় মার্কিন মুলুকে যাওয়া এই তরুণদের বিতাড়নের হাত থেকে রেহাই দিয়ে সে দেশে বসবাস, পড়াশোনা ও ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন ওবামা। অবশ্য সমালোচকেরা এ প্রকল্পকে অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষমা করার নামান্তর বলে এসেছেন।

কর্মসূচিটি বাতিলের পরপরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ওবামা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি নতুন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে ‘নিষ্ঠুর’ ও ‘ভুল’ অ্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘এসব তরুণকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানো উচিত নয়, কারণ তাঁরা এমন কিছু করেননি যা অন্যায়।’

ওবামা বলেন, ‘হয় আমরা সেই ধরনের মানুষ, যাঁরা আশাবাদী তরুণদের আমেরিকা থেকে বের করে দিতে চাই; কিংবা নিজের সন্তানকে যেভাবে দেখি, এসব তরুণকেও সেভাবে দেখতে পারি।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন যে তাঁর ভাষায় তথাকথিত এই ড্রিমারদের বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে পাবে মার্কিন কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘মানুষ তাদের শিশু মনে করলেও আসলে তারা যথেষ্টই বড়। তাদের জন্যে আমার ভালোবাসাও রয়েছে, আর আমি আশাবাদী যে কংগ্রেস তাদের যথাযথই সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ নিয়ে সঠিক কাজটি করতেও বলেছি। আর সত্যিই আমাদের কোনো উপায় ছিল না। আমি মনে করি, এখন এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সঠিক সমাধানের দিকেই যাচ্ছে।’

ড্রিমার প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে কোথাও কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মেক্সিকো ও এলসালভাদরের সরকার তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীদের দেখা গেছে মেক্সিকোর মার্কিন দূতাবাসের সামনেও। ‘ড্রিমার’ প্রকল্প বাতিলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব ল্যাটিন আমেরিকার দেশের তরুণেরাই।