শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাসে ঢিল

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭
news-image

বিস্ময় হয়েই এল খবরটা। গতকাল জহুর আহমদ চৌধুরি স্টেডিয়াম থেকে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষ করে হোটেলে ফেরার পথে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাসে কে বা কারা ঢিল মেরেছে! ঢিলের আঘাতে বাসের একটি কাঁচও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে খুঁতখুঁতে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাসে এই হামলা অস্বস্তিতে ফেলেছে বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে। বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে আয়োজক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। বজ্র অাঁটুনির মধ্যে যে ফসকা গেরো থাকতে পারে, সেটিও বোঝা গেল। এই ঢিল বুঝিয়ে গেল, সামান্যতম ঢিলেমিরও সুযোগ নেই।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই সিরিজটা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আজ থেকে দুই বছর আগে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া সে সময় সিরিজটা স্থগিত করেছিল। দুই বছর পর অনেক হিসাব-নিকাশ করে অস্ট্রেলিয়া যখন বাংলাদেশে এল, ঠিক তখনই এই ঢিল-কাণ্ড আমাদের ভাবমূর্তির বড় একটা ক্ষতি।
২০১১ সালে ঠিক এমনই একটা ঘটনার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। বিশ্বকাপে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ক্যারিবীয় দলের টিম বাসেও ঢিল ছোঁড়া হয়েছিল। তখন ক্রিস গেইলের টুইট সারা ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় ফেলেছিল। সে তুলনায় বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো বলতেই হবে-অস্ট্রেলিয়া বিষয়টিকে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি হিসেবে নিচ্ছে না। তবে বাংলাদেশের অবশ্য সতর্ক হতে হবে। অতিথির দেখভালের সুনাম রক্ষার দায় তো বাংলাদেশেরই।
এই ঢিল কে কেন ছুঁড়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। যে বা যারাই ঢিল ছুঁড়ুক, তাদের দায় আছে। দায় আছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও। এক-দুজনের এমন কাণ্ডের দায় পুরো বাংলাদেশকে নিতে হয়। এরকম এক-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দাগ পড়ে ক্রিকেটপাগল মানুষের খেলাটির প্রতি ভালোবাসার ওপর।
২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলও বাংলাদেশে এসে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছিল। গ্যালারি থেকে তাদের নির্দিষ্ট কিছু ক্রিকেটারের গায়ের রং নিয়ে বাজে চিত্কার করা হয়েছিল; দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতির জন্য যেটি খুবই স্পর্শকাতর। বাসে ঢিল ছোঁড়ার চেয়েও বড় ঘটনা।
কখনও কখনও সমর্থকদের অতি উত্সাহ ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে দেশের ক্রিকেটের জন্য। অথচ বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেট প্রেম কিংবা আয়োজক বাংলাদেশের সুনাম সারা ক্রিকেট বিশ্বেই আছে।
১৯৮৮ সালে এশিয়া কাপের সফল আয়োজক হয়ে সুনাম কুড়িয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৮ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ, এরপর নকআউট বিশ্বকাপের মত বড় আসরের আয়োজন। এমনকী টেস্ট মর‌্যাদা পাওয়ার পর বাংলাদেশ যখন একের পর এক ম্যাচ হারছে, তখনও গ্যালারি থেকে একটি বোতলও মাঠে উড়ে আসতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আজকের পর‌্যায়ে আসার পিছনে সমর্থকদের এই ভালোবাসা আর নিষ্ঠার আছে বড় ভূমিকা। অথচ বাংলাদেশ দল যখন আরও পরিণত হয়ে উঠছে, তখনই সমর্থকদের কিছু অংশ থেকে অপ্রত্যাশিত অপরিণত আচরণের নজির মিলেছে। কখনও কখনও যার শিকার হয়েছেন দেশের ক্রিকেটাররাও।
গত বছর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর অক্টোবরে ইংলিশ ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর হুমকির মুখেই পড়েছিল। কিন্তু শেষপর‌্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে তারা বাংলাদেশে আসে। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সে সময় ইংলিশ ক্রিকেটাররা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। ধন্যবাদ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে দৈনন্দিন জীবনাচারে অসুবিধা মেনে নেওয়ার জন্য। ইংলিশ ক্রিকেট দলের সেই অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার এবারের সফরের পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
এর মধ্যে এমন ঘটনা কিছুতেই প্রত্যাশিত নয়।