মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই পালানোর ছক এঁকেছিলেন

News Sundarban.com :
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭
news-image

দুই শিষ্যকে ধর্ষণের অপরাধে বিতর্কিত ধর্মগরু গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই পালানোর ছক এঁকেছিলেন। দোষী সাব্যস্তের পর রাম রহিমকে কারাগারে নেওয়ার সময় স্বঘোষিত এই আধ্যাত্মিক নেতার ‘কমান্ডো’রা তাঁকে মুক্ত করার একটি চেষ্টা চালান, যা ব্যাহত করে দেয় হারিয়ানা পুলিশ। গত বুধবার পুলিশের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, দুই শিষ্যকে ধর্ষণের অভিযোগে ডেরা সচ সউদার এই ধর্মগুরুকে আদালত ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
গুরগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে হরিয়ানা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কে কে রাও বলেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই রাম রহিম সিরসা থেকে লাল একটি ব্যাগ চেয়েছিলেন। ডেরাপ্রধান রাম রহিম বলেছিলেন, ওই ব্যাগেই তাঁর জামাকাপড় রয়েছে। কিন্তু আসলে এটা ছিল একটা ইঙ্গিত। এর মাধ্যমে রাম রহিম ভক্তদের জানাতে চেয়েছিলেন, তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল ভক্তরা যাতে বিক্ষোভ করতে পারেন।
আইজিপি রাও বলেন, রাম রহিমের ব্যাগটি গাড়ি থেকে নামানোর পরই কাঁদানে গ্যাসের শেলের শব্দ শোনা যায়। এর অর্থ হলো, ওই সংকেত রাম রহিমের ভক্তরা বুঝতে পেরেছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন তাঁরা দেখেন, রাম রহিম সিং এবং তাঁর পালক কন্যা পঞ্চকুলা আদালত চত্বরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। নিষেধ করার পরও তাঁরা আসলে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে থেকে সময় নিচ্ছিলেন, যাতে বিক্ষোভের জন্য ভক্তরা সংগঠিত হতে পারেন।
নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা রাম রহিমকে সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন—এমন খবর আগেই পেয়েছিল পুলিশ। তাই দোষী সাব্যস্ত করার পর বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে পঞ্চকুলার বিশেষ আদালত থেকে রোহাতক কারাগারে নেওয়া হয়।
ভক্তদের ভিড় কাছাকাছি আসার খবর পেয়ে পুলিশ রাম রহিমকে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা ডিএসপি সমিত কুমারের গাড়িতে বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গাড়িতে বসানোর সময় ডেরাপ্রধানের ভক্তরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। আইজিপি অভিযোগ করেন, পুলিশের ডিএসপি কুমার এবং তাঁর লোকজনের সঙ্গে রাম রহিমের সমর্থকদের হাতাহাতি হয়। পুলিশ চেষ্টা করেছে গুলি না ছুড়তে।
রাও হামলার আশঙ্কায় রাম রহিমকে পথ বদলে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে ভক্তরা আধা ঘণ্টা ধরে বুঝতেই পারেননি কোন পথে রাম রহিমকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আইজিপি বলেন, ‘লাল ব্যাগ চাওয়ামাত্রই আমরা রাম রহিমের পালানোর পরিকল্পনা জানতে পারি। এটাও বুঝতে পারি, ভক্তরা অতিরিক্ত সময় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আরও নিশ্চিত হই, যখন ৭০টি গাড়ি নিয়ে ভক্তরা অপেক্ষায় ছিলেন। এ কারণেই সোনারিয়া থেকে রাম রহিমকে রোহাতক কারাগারে নেওয়া হয়।’